বিশ্বকর্মা দিবসে বড় বার্তা, বাংলায় ৫ লক্ষ মানুষকে নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

Published on:

Published on:

CM Suvendu Adhikari makes major announcement regarding Nandigram
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতায় প্রথমবার পালিত হল পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা দিবস। ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার বাংলায় একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছতে দেয়নি। বিশ্বকর্মা যোজনার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

Suvendu Adhikari : ‘বাংলার মানুষকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে দূরে রাখা হয়েছিল’

শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছেন। এদিন অন্নপূর্ণা দিবস পালন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১ কোটি ৬০ লক্ষ মা-বোন-দিদির অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাঠানো হয়েছে। এই উদ্যোগের জন্য তিনি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতেনরাম মাঝিকে ধন্যবাদ ও সম্মান জানান।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর এবং বিশ্বকর্মা যোজনার মতো প্রকল্পের সুবিধা থেকে এতদিন পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে ছিল। তিনি জানান, মাত্র চার মাসের সরকারে ১৬ আগস্ট রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালু করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এর চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছেন। সুবিধা পেয়েছেন প্রায় ২ হাজার পরিযায়ী শ্রমিকও।

বিশ্বকর্মা যোজনার প্রসঙ্গে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, তিনি বিরোধী দলনেতা থাকার সময়ও বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন, হাতের কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জন্য থাকা এই প্রকল্পে বাংলা কেন যুক্ত হচ্ছে না। তাঁর দাবি, আগের সরকার প্রতিটি জেলাশাসককে বিশ্বকর্মা যোজনার কাজ না করার নির্দেশ দিয়েছিল।

আগামী বছর পাঁচ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য

পুজোর আগে বিশ্বকর্মা যোজনার কাজ শুরু হওয়ায় উপভোক্তাদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানান শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, আগামী বছর ১৭ সেপ্টেম্বর এই অনুষ্ঠান আর অডিটোরিয়ামে করা যাবে না, খোলা মাঠে করতে হবে। কারণ তখন পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ লক্ষ মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

মনরেগা নিয়েও আগের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, মনরেগা ব্যবস্থা নষ্ট করা হয়েছে এবং জব কার্ডধারীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বহু গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অফিসে যাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এর কারণ প্রকাশ করতে চাননি।

বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে পঞ্চায়েত সচিবদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, এরপরেই ৩ হাজারের বেশি বিশ্বকর্মা যোজনার অনুমোদন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের মধ্যে এক নম্বরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

৭ লক্ষ ৭০ হাজারের বেশি এনরোলমেন্ট

মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানান, বিশ্বকর্মা যোজনায় ইতিমধ্যে ৭ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ এনরোল করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২ লক্ষের বেশি শিল্পী রয়েছেন। ছুতোর, মূর্তিকার, মাছ ধরার নৌকা তৈরি করা কারিগর, মাছ ধরার জাল তৈরি করা মৎস্যজীবী, লোহার কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, তালা-চাবি প্রস্তুতকারক, কামার, নাপিত, মালাকার-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন। এছাড়াও ঝিনুক, কাঠ ও জুট দিয়ে পুতুল তৈরি করেন এমন কারিগরদের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য, এই মানুষগুলির অনেকের দক্ষতা বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। সেই কাজের জন্য আলাদা কোনও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। তাঁর অভিযোগ, দেশের অন্য অংশ এই প্রকল্পের সুবিধা পেলেও পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু সেই সুবিধা নিতে পারেনি।

তিনি বলেন, বাংলায় যাঁরা বিশ্বকর্মা যোজনা চালু হতে দেননি, তাঁদের পরিবর্তন করে দিয়েছেন বাংলার প্রকৃত বিশ্বকর্মারাই। পাশাপাশি কারিগরদের প্রশিক্ষণেরও আশ্বাস দেন তিনি। MSME-র মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষণের সময় ভাতাও দেওয়া হবে বলে জানান শুভেন্দু।

CM Suvendu Adhikari issues strict guidelines for Durgapuja Stall

আরও পড়ুনঃ সোনাগাছিতে অন্নপূর্ণার টাকা, স্বস্তি যৌনকর্মীদের! কারা পেলেন, কারা এখনও অপেক্ষায়?

উদ্যম পোর্টালে বাংলার ৬৩ লক্ষের বেশি রেজিস্ট্রেশন

উদ্যম পোর্টালের তথ্য তুলে ধরে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) জানান, সারা দেশে এখনও পর্যন্ত ৯ কোটি ৩০ লক্ষ রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা ৬৩ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি। এটিও একটি সাবসিডি স্কিম বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই প্রকল্পের সঙ্গেও উপভোক্তাদের যুক্ত করা হবে।