বাংলা হান্ট ডেস্ক: টাটা গ্রুপের (Tata Group) হোল্ডিং কোম্পানি টাটা সন্সের (Tata Sons) বোর্ড বৃহস্পতিবার তথা ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ এন. চন্দ্রশেখরনকে (Natarajan Chandrasekaran) একজিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসাবে আরও ৫ বছরের জন্য পুনর্নিয়োগ করেছে। এদিকে, বোর্ড সংস্থাটির IPO লিস্ট করার প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এদিকে, বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে এই খবরে জামশেদপুরেও আনন্দের ঢেউ উঠেছে। জানিয়ে রাখি যে, ২০২৬ সালের অগাস্টে চন্দ্রশেখরন ঘোষণা করেন যে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। যদিও, বোর্ড এখন তাঁকে আবারও ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে।
টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে চন্দ্রশেখরনের (Natarajan Chandrasekaran) পুনর্নিয়োগ:
রিপোর্ট অনুসারে, টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু বোর্ডের অন্য সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এটি পাশ করে দেন। বৈঠকটি প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলেছিল। এদিকে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তথা RBI-র একটি নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। RBI টাটা সন্সকে একটি আপার-লেয়ার NBFC হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করে এবং সংস্থাকে লিস্টিং করার আদেশ দেয়। অপরদিকে, সংস্থাটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন থাকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, RBI তা প্রত্যাখ্যান করে। এমতাবস্থায়, চন্দ্রশেখরনের নেতৃত্বে IPO-র প্রস্তুতি সহজ বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, চন্দ্রশেখরন ২০১৭ সাল থেকে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০২২ সালে তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। যা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০২৫ সালে টাটা ট্রাস্টস তৃতীয় মেয়াদের জন্য সুপারিশ করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন বোর্ড সভায় নোয়েল টাটার বিরোধিতার কারণে সিদ্ধান্তটি আটকে যায়।
আরও পড়ুন: গোলের সেঞ্চুরি করে ৪৯ তম ট্রফি জয়! মেসি ম্যাজিকেই কাম্পিয়োনেস চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামি
জামশেদপুরে আনন্দের ঢেউ: এদিকে, চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বৃদ্ধিতে জামশেদপুরের ব্যবসায়ী এবং টাটা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সদস্যরা আনন্দ প্রকাশ করছেন। দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদন অনুযায়ী CAIT-র জাতীয় সচিব সুরেশ সান্থোলিয়া বলেন, ‘বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে এই খবরটি টাটা গ্রুপের জন্য অত্যন্ত ভালো। টাটা গ্রুপের জন্য এই বিবাদের অবসান ঘটানো জরুরি।’ মূলত, চন্দ্রশেখরনের জামশেদপুর শহরের সঙ্গে গভীর যোগসূত্র রয়েছে। তাঁর স্ত্রী ললিতা চন্দ্রশেখরন জামশেদপুরেরই কন্যা। তিনি ১৯৮০ সালে স্যাক্রেড হার্ট কনভেন্ট স্কুল থেকে স্নাতক হন। তাঁর বাবা ও দাদা টাটা স্টিলে আধিকারিক ছিলেন। এই কারণে শহরে চন্দ্রশেখরনকে ‘জামাই’ বলা হয়।
আরও পড়ুন: ভারতে আসতে অনিচ্ছুক! চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি পাকিস্তানের, কী জানাল হকি ইন্ডিয়া?
টাটা স্টিলের ব্যবসায়ী ভারত বাসানি বলেন, চন্দ্রশেখরন প্রতিষ্ঠা দিবসে নিয়মিত জামশেদপুর আসেন এবং টাটা স্টিলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি TCS-কে বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত করেছেন। টাটা গ্রুপকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তিনি ঝাড়খণ্ডে উন্নত প্রযুক্তির জন্য ১১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেন এবং টাটা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও, চন্দ্রশেখরন ওই শহরের উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে টাটা গ্রুপের অংশগ্রহণকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছেন।













