বাংলা হান্ট ডেস্ক : রেশন থেকে শুরু করে মিড ডে মিল, বছরভর একাধিক সরকারি পরিষেবায় চালের জোগান দিতে হয় রাজ্যকে। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ২০২৬-২৭ খরিফ মরশুমে নতুন করে ধান সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আপাতত কৃষকদের কাছ থেকে ২৪ লক্ষ ৬৬ হাজার টন ধান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার (West Bengal Government)।
২৪ লক্ষ টন ধান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার (West Bengal Government)
কোথায় কতটা ধান কেনা হবে, সেই হিসাবও ইতিমধ্যে তৈরি করেছে খাদ্যদপ্তর। জেলার উৎপাদন ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা পরিমাণ ঠিক করা হয়েছে। সম্প্রতি দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে গোটা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।ধান কেনার ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষককে সরাসরি সুবিধা দেওয়াই এবার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “তৃণমূল সরকারের আমলে যাদের থেকে ধান কেনা হত, তার মধ্যে প্রকৃত কৃষক থাকত ৩০ শতাংশ। কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে ফড়েরা সরকারের কাছে ধান বিক্রি করে ফায়দা লুটত। এখন থেকে এসব হবে না।”
জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে প্রায় ৬ কোটি মানুষ রয়েছেন। তাঁদের এক বছরের রেশনের প্রয়োজন মেটাতে আনুমানিক ১৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টন চাল দরকার বলে খাদ্যদপ্তরের হিসাব। সেই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই প্রথম দফায় ধান সংগ্রহের পরিমাণ স্থির করা হয়েছে। তবে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ধান থেকে চালের চাহিদা মেটানো যাবে না।
হাওড়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো কয়েকটি জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য জেলা থেকে চাল পাঠাতে হবে। উৎপাদন তুলনামূলক বেশি থাকা এলাকাগুলিতে আবার স্থানীয় সংগ্রহের মাধ্যমেই চালের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানেই সামনে আসছে আগের মরশুমের অভিজ্ঞতা। গত খরিফে সরকারি ভাবে ৬৭ লক্ষ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য রাখা হয়েছিল।
বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রায় ৪৮ লক্ষ টন ধান কেনা হয়ে যায়। পরে আরও ২ লক্ষ টন সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হলেও সেই অতিরিক্ত ধান শেষ পর্যন্ত সরকারি ভাণ্ডারে ওঠেনি। শুধু রেশন গ্রাহকদের জন্যই সরকারি ভাবে কেনা ধান ব্যবহার করা হয় না। সেই ধান থেকে তৈরি চাল রাজ্যের নিজস্ব খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ উপভোক্তার কাছেও পৌঁছয়। পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং স্কুলের মিড ডে মিলের জন্যও এই চাল প্রয়োজন হয়।

আরও পড়ুন :ফের শুরু ম্যানুয়াল থেকে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের কাজ! কী কী নথি লাগছে জানুন
দপ্তর সূত্রের খবর, পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ধান কেনার পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন পড়লে সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে সরাসরি চাল কেনার ব্যবস্থাও করা হতে পারে। এবার কৃষকদের জন্যও রয়েছে বাড়তি আর্থিক সুবিধা। রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, সরকারি ব্যবস্থায় কৃষকের কাছ থেকে কেনা ধানের ক্ষেত্রে এমএসপির পাশাপাশি প্রতি কুইন্টালে আরও ২০০ টাকা দেওয়া হবে। এই অতিরিক্ত অর্থের ভার বহন করবে রাজ্য সরকার নিজেই।













