বাংলা হান্ট ডেস্ক : শহরের রাস্তা দখল করে পুজোর বিজ্ঞাপন পড়ে থাকার পুরনো ছবি বদলাতে চাইছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। দুর্গাপুজোর সময় হোর্ডিং, ফ্লেক্স কিংবা ব্যানারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবার বিজ্ঞাপনের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হচ্ছে। পুজো কমিটিগুলিকে আর নিজেদের মতো করে রাস্তার ধারে বিজ্ঞাপন বসানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। পুরসভার ছাড়পত্র ছাড়া কোনও অস্থায়ী বিজ্ঞাপন কাঠামো বসানো যাবে না।
পুজোর বিজ্ঞাপনে কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation)কড়াকড়ি
পুরসভার নতুন ব্যবস্থায় বিজ্ঞাপনের আকার, অবস্থান এবং কতদিন তা থাকবে—সবকিছুর উপরেই নজর রাখা হবে। বিশেষ করে বড় পুজোগুলির আশপাশে বাঁশের কাঠামো তৈরি করে দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপন রেখে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করাই অন্যতম লক্ষ্য। এতদিন পুজো শেষ হওয়ার পরও বহু জায়গায় এই ধরনের কাঠামো সরানো না হওয়ায় রাস্তার একাংশ দখল হয়ে থাকত।
এবার সেই কাঠামোর উচ্চতাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে পুরসভা। বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য তৈরি অস্থায়ী বাঁশের গেট সর্বোচ্চ ২২ ফুট পর্যন্ত করা যাবে। এর বেশি উচ্চতার কাঠামো তৈরির অনুমতি মিলবে না। একইসঙ্গে বিজ্ঞাপন কোথায় বসানো হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ কোনও হোর্ডিং বা ব্যানারের জন্য শহরের নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হোক, তা চায় না পুরসভা।রাস্তার আলো, যাত্রীদের জন্য তৈরি ছাউনি কিংবা আগে থেকেই থাকা স্থায়ী বিজ্ঞাপন কাঠামোর সামনে বা এমন জায়গায় বিজ্ঞাপন বসানো যাবে না, যেখানে সেগুলির ব্যবহার বা রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা হতে পারে। আবেদন করার সময় বিজ্ঞাপনের মাপও জানাতে হবে উদ্যোক্তাদের।
আবেদনের জন্য এবার নির্দিষ্ট সময়ও রাখা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন দপ্তরে আবেদন জানাতে হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে। অর্থাৎ শেষ মুহূর্তে বিজ্ঞাপন বসানোর পরিকল্পনা করলে সমস্যায় পড়তে পারেন পুজো উদ্যোক্তারা।শুধু আবেদন করলেই অবশ্য রাস্তার ধারে বিজ্ঞাপন বসানো যাবে না। পুরসভার অনুমোদন পাওয়ার পরই হোর্ডিং, ফ্লেক্স বা ব্যানার লাগানোর অনুমতি মিলবে। তারও রয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমা। ৩ অক্টোবরের আগে কোনও বিজ্ঞাপন কাঠামো বসানো যাবে না। আবার পুজো পর্ব মিটে যাওয়ার পরে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সব হোর্ডিং, ফ্লেক্স এবং ব্যানার খুলে ফেলতে হবে।
অনুমোদিত বিজ্ঞাপন চেনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পুরসভার অনুমতি পাওয়া প্রতিটি হোর্ডিংয়ে সংশ্লিষ্ট পারমিশন আইডি উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি কোন পুজো কমিটি সেটি লাগিয়েছে এবং কোন বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থা প্রচার করছে, সেই তথ্যও দিতে হবে। বিজ্ঞাপনদাতার ফোন নম্বরও সেখানে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।

আরও পড়ুন :পুজোর মুখে গ্যাসের দামে বড় বদলের সম্ভাবনা! LPG সিলিন্ডার সস্তা হলে কত হবে ?
পুরসভা সূত্রের খবর, পুজোর বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে এই ধরনের নির্দিষ্ট অনুমতিপ্রক্রিয়া এবারই প্রথম চালু করা হচ্ছে। নিয়ম ভেঙে অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপন বসানো হলে কিংবা নির্ধারিত শর্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে। ফলে পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি এবার বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও উদ্যোক্তাদের পুরসভার নিয়ম মেনে চলতে হবে। দুর্গাপুজোর আনন্দের সঙ্গে শহরের স্বাভাবিক চলাচল ও নাগরিক পরিষেবার ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই কড়াকড়ি।













