বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে আইনি জট ক্রমশই বড় আকার নিচ্ছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর সময় তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের একটা বড় অংশই সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। নিজেদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে ইতিমধ্যেই তাঁরা আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের জমা দেওয়া নথিতে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান।
এসআইআর-এ (SIR) ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন কতজন?
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা মামলার জবাব দিতে গিয়ে শীর্ষ আদালতে হলফনামা জমা দিয়েছে কমিশন। সেই নথি অনুযায়ী, SIR-এর পর যাঁদের নাম বাদ গিয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ২২.২১ লক্ষ মানুষ পুনরায় তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন। শুধু বাদ পড়া নাম ফেরানোর আবেদনই নয়, ভোটার তালিকায় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও আপত্তি জমা পড়েছে। এই ধরনের নাম বাতিলের দাবিতে আরও ১৬.১০ লক্ষ আবেদন রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন আপিল ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচারাধীন আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮.৩১ লক্ষ।
এত বিপুল মামলার চাপ সামলাতে এবার ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দ্রুত শুনানি শেষ করে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার ভিত্তিতে নতুন ট্রাইব্যুনাল তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশন সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, “রাজ্যে বিচারাধীন আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সুনিশ্চিত করতে লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে।”
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তৈরি হওয়া মতবিরোধের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের এই যাচাইয়ের কাজে যুক্ত করা হয়। প্রায় ৬০.০৬ লক্ষ ভোটারের তথ্য খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে প্রায় ৭০০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে কাজে নামানো হয়েছিল। সেই যাচাই পর্ব শেষ হওয়ার পর ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যায়। এরপর বাদ পড়া নাম নিয়ে আপত্তি বা পুনর্বহালের আবেদন শোনার জন্য ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল তৈরি করা হয়।

আরও পড়ুন : সিভিকদের জন্য বেঁধে দেওয়া হল একগুচ্ছ নিয়ম, ছুটি নিতেও লাগবে অনুমতি
কিন্তু নির্বাচনের আগে সেই আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটপর্বের মধ্যে মাত্র ১,৬০৭ জনের নাম ফের ভোটার তালিকায় যুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব কার্যকর হলে বিচারাধীন মামলাগুলির নিষ্পত্তির গতি বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। SIR-পরবর্তী ভোটার তালিকা নিয়ে যে আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি, নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় দেওয়া পরিসংখ্যান থেকেই তার ছবি স্পষ্ট।














