বাংলা হান্ট ডেস্ক : করম পরবকে কেন্দ্র করে বড় সামাজিক জমায়েতের আয়োজন করেছে কুড়মি সমাজ। এই অনুষ্ঠানে এবার উপস্থিত থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিন বছর ধরে ২০ সেপ্টেম্বর মানেই জঙ্গলমহলের একাধিক প্রান্তে দেখা যেত আন্দোলনের ছবি। রেললাইন অবরোধ, সড়ক আটকে বিক্ষোভ—কুড়মি সমাজের তপশিলি উপজাতির স্বীকৃতির দাবিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই উত্তপ্ত হয়ে উঠত পরিস্থিতি। কিন্তু এবার সেই চেনা দৃশ্য নেই। আন্দোলনের বদলে বড় সামাজিক জমায়েতের আয়োজন করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) ঘোষণার দিকে তাকিয়ে গোটা কুড়মি সমাজ
শুধুমাত্র উৎসব নয়, আজকের অনুষ্ঠানকে ঘিরে কুড়মি সমাজের প্রত্যাশাও বেড়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাদের জন্য বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমাজের মানুষ। গত তিন বছর ধরে নির্দিষ্ট দিনে রেল ও সড়ক অবরোধের মাধ্যমে নিজেদের দাবি সামনে এনেছিল আদিবাসী কুড়মি সমাজ। এর প্রভাব পড়েছিল পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায়।
উল্লেখ্য, এবার ২০ সেপ্টেম্বরের রেল রোকো কর্মসূচি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার বদলে ঐতিহ্যবাহী করম পরবকে সামনে রেখে বড় আকারের জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।এই জমায়েতের পরিসরও বেশ বড়। আয়োজকদের তরফে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানে বাংলার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকেও কুড়মি সমাজের মানুষ আসবেন। সব মিলিয়ে উপস্থিতির সংখ্যা লক্ষাধিক হতে পারে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে বিশাল আদিবাসী নৃত্য পরিবেশন। মুখ্যমন্ত্রীর সামনে প্রায় ৪০ হাজার করম দলের শিল্পী নৃত্য পরিবেশন করবেন বলে জানা গিয়েছে। তবে উৎসবের রঙের আড়ালে আজকের অনুষ্ঠানের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। কুড়মি সমাজ দীর্ঘদিন ধরে তপশিলি উপজাতির মর্যাদার দাবি জানিয়ে আসছে। সেই দাবিকে কেন্দ্র করেই গত কয়েক বছরে আন্দোলনের ঝাঁঝ বেড়েছিল।

আরও পড়ুন : SIR-এ বাদ পড়া ৮২% ভোটারই লড়ছেন নাম ফেরাতে! সুপ্রিম কোর্টে প্রকাশ পেল বড় সংখ্যা
এবার অবরোধের বদলে সমাবেশের মাধ্যমে সেই দাবি এবং নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে তারা। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেই বিষয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হয় কি না, সেটাই এখন মূল কৌতূহল।পুরুলিয়ায় আজ ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীরও। করম পরবের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তাঁর প্রশাসনিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। তিন বছরের রেল রোকোর ধারাবাহিকতা ভেঙে এবার করম পরবের মঞ্চে নতুন বার্তার অপেক্ষায় জঙ্গলমহল। বিশেষ করে কুড়মি সমাজের দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কী হয়, দিনের শেষে সেটিই হয়ে উঠতে পারে আজকের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।














