আজ গেলেও পাবেন না জগন্নাথদেবের দর্শন, ৪ ঘন্টা বন্ধ পুরীর মন্দির, কিন্তু কেন?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য অন্যতম পবিত্র ও জনপ্রিয় তীর্থক্ষেত্র হল পুরীর জগন্নাথধাম (Puri Jagannath Temple)। বছরভর এখানে তীর্থযাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু আজ পুরীর মন্দিরে গেলে আর জগন্নাথদেবের দর্শন পাবেন না। এদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত মোট ৪ ঘন্টা বন্ধ থাকবে পুরীর জগন্নাথ মন্দির। দর্শকদের এই সময় মন্দিরে প্রবেশ মানা। কিন্তু কারণটা কী?

৪ ঘন্টা বন্ধ থাকছে পুরীর মন্দির (Puri Jagannath Temple)

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পালিত হবে ‘বনকালাগি রীতি’ বা শ্রীমুখ শৃঙ্গার। খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে পালিত হয় এই বিশেষ রীতি। কিন্তু কী এই রীতি? স্নানযাত্রার সময়ে ১০৮ ঘড়া জল, দেড় মণ দুধ সহ নানান জিনিসে স্নান করানো হয় জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রাকে। বলা হয়, এই স্নানের পর টানা ১৪ দিন ধরে ‘জ্বর’ থাকে জগন্নাথদেবের। এছাড়া এই স্নানের জন্য বিগ্রহদের রঙেও পড়ে প্রভাব। তাই এই গোপনীয় রীতি পালনের মাধ্যমে পুনরায় রঙ করা হয় জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শনকে। এই রীতিই শ্রীমুখ শৃঙ্গার।

Puri Jagannath Temple will be closed today

 

কী এই বিশেষ রীতি: শ্রীমুখ অর্থাৎ দেবতার পবিত্র মুখ এবং শৃঙ্গার মানে দেবতার সাজসজ্জা (Puri Jagannath Temple)। অত্যন্ত গোপনীয় এই রীতিতে বিশেষ প্রাকৃতিক রঙয়ে সাজিয়ে তোলা হয় জগন্নাথদেবকে। শঙ্খ থেকে তৈরি হয় সাদা রঙ, হরিতাল থেকে হলুদ, হিঙ্গুল থেকে লাল রঙ এবং কালো উপাদান ব্যবহার করে মুখমণ্ডল সাজিয়ে তোলা হয় দেবতাদের।

আরও পড়ুন : মণ্ডপে মণ্ডপে সাদা পোশাকে ঘুরবে পুলিশ, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পেলেই তৎক্ষণাৎ ‘অ্যাকশন’!

রঙের অর্থ কী: বনকালাগি কথাটিতে ‘বানা’ শব্দের অর্থ জঙ্গল এবং ‘লাগি’ শব্দের অর্থ আবেদন জানানো। জঙ্গলের চার রকম উপাদান দিয়ে করা হয় দেবতাদের সাজসজ্জা। প্রতিটি রঙের আলাদা আলাদা প্রতীকী অর্থ রয়েছে। সাদা হল পবিত্রতা ও শুভ্রতার প্রতীক। হলুদ সমৃদ্ধি ও জ্ঞানের প্রতীক। লাল হল জীবনীশক্তির প্রতীক। কালো অনন্তকাল ও পরম সত্যের প্রতীক।

আরও পড়ুন : পদ্মার ইলিশের আশা নেই, ভারতের কোন রাজ্যের রূপোলি শষ্য স্বাদে সেরা?

বিশেষ কয়েকজন সেবায়েত যাদের বলা হয় দত্ত মহাপাত্র, তাঁরাই থাকেন শৃঙ্গারের দায়িত্বে। তাঁদেরই অনুমতি থাকে গর্ভগৃহে প্রবেশ করার। শৃঙ্গার শেষ করতে সময় লাগে ৩-৪ ঘন্টা। শৃঙ্গারের পর দেবতাদের গর্ভগৃহে রত্ন শয্যার উপরে রাখা হয়। এরপর মন্দির শুদ্ধিকরণের কাজ করা হয়। সবশেষে ঈশ্বরের নবধৌতি বা নবযৌবন রূপের দর্শন পান ভক্তরা।