বাংলাহান্ট ডেস্ক: ডিজিটাল লেনদেন নিয়ে দেশের (India) অন্দরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এতদিন নগদহীন অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে UPI (UPI Payments)-কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হলেও, এবার অতিরিক্ত মাশুলের সম্ভাবনা নিয়ে ক্রেতাদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে সংশয়। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষার দাবি, UPI লেনদেনে বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হলে দেশের একটা বড় অংশের ক্রেতা ফের নগদ টাকা, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড কিংবা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মতো বিকল্প পেমেন্ট পদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে পারেন। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭৬ শতাংশ মানুষ অন্তত এমনটাই জানিয়েছেন। ফলে ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে UPI-এর যে জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে, এই পরিবর্তন তার উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
UPI (UPI Payments)-তে অতিরিক্ত ফি বসতেই নগদ লেনদেনে ফিরতে চান ৭৬ শতাংশ ক্রেতা!
সমীক্ষাটি দেশের ২৯১টি জেলার প্রায় ৬৭ হাজার ইউজারের মতামতের ভিত্তিতে করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে ৭৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, UPI লেনদেনে (UPI Payments) অতিরিক্ত মাশুল তাঁদের উপর চাপানো হলে তাঁরা নগদ, কার্ড অথবা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মতো বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে মাত্র ১৪ শতাংশ UPI ব্যবহারকারী বলেছেন, অতিরিক্ত চার্জ তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হলেও তাঁরা UPI ব্যবহার চালিয়ে যাবেন। বাকি ১০ শতাংশের মত, তাঁরা পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য কোনও পেমেন্ট পদ্ধতি বেছে নেওয়ার কথা ভাববেন। অর্থাৎ, মাশুলের সম্ভাবনা নিয়ে গ্রাহকদের একটা বড় অংশের মধ্যেই যে চিন্তা তৈরি হয়েছে, সমীক্ষার পরিসংখ্যানেই তার ইঙ্গিত মিলছে।
আরও পড়ুন: লিটার প্রতি ১৬ টাকা বাড়ল ATF-এর দাম! বিমানভাড়ায় হবে বৃদ্ধি?
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে MDR বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট। কোনও ব্যবসায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট পরিষেবার জন্য ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট পরিষেবা ব্যবস্থার কাছে যে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হয়, তাকেই সাধারণভাবে MDR বলা হয়। ভারতে UPI লেনদেনের ক্ষেত্রে ২০২০ সালের পর থেকে এই ধরনের চার্জের ব্যবস্থা কার্যত ছিল না। এর ফলে UPI দ্রুত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। এখন ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকার বেশি নির্দিষ্ট UPI লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ MDR সংক্রান্ত নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও এই খরচ শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ী বহন করবেন, নাকি কোনও ক্ষেত্রে তার প্রভাব গ্রাহকের উপর পড়বে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য ছোট ব্যবসায়ীদের নিয়ে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এই অতিরিক্ত মাশুলের আওতায় আনা হবে না। ফলে নতুন ব্যবস্থার প্রভাব সব ব্যবসায়ী বা সব ধরনের UPI লেনদেনের ক্ষেত্রে একই রকম হবে না। তবে গ্রাহকদের আশঙ্কা, কোনও কোনও ব্যবসায়ী তাঁদের বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে পণ্যের দাম বা পরিষেবার খরচের সঙ্গে সেই অর্থ যোগ করতে পারেন। সেই কারণেই সমীক্ষায় অংশ নেওয়া বহু মানুষ আগে থেকেই বিকল্প পেমেন্ট পদ্ধতির কথা ভাবছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বাস্তবে ব্যবসায়ীরা কীভাবে এই পরিবর্তন সামলাবেন, তার উপরও পরিস্থিতির অনেকটাই নির্ভর করবে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরদা কুখ্যাত ডাকাত! IIT পাস নাতি সফল হলেন UPSC-তে, উদ্বুদ্ধ করবে দেব প্রভাকরের কাহিনি
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের উপর নতুন করে মাশুল চাপানোর বিষয়টি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাতেও ফি আরোপের রাস্তা খুলে যেতে পারে। তবে সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ছোট ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে UPI (UPI Payments) ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাশুলের প্রশ্নটি এখন গ্রাহক এবং ব্যবসায়ী—দুই পক্ষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতদিন যে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে, অতিরিক্ত খরচের আশঙ্কা তৈরি হলে তার ব্যবহারকারীদের আচরণে কতটা পরিবর্তন আসে, আগামী দিনেই তার স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।













