প্রথম চেষ্টায় হয়েছেন ব্যর্থ! দ্বিতীয়বার ব্যবসা শুরু করে মাত্র ৩ বছরেই ৩ কোটির কোম্পানি গড়লেন মোহিতা

Published on:

Published on:

Success Story of Mohita Gupta Indrayan will surprise you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফ্যাশন দুনিয়ায় সাফল্যের (Success Story) জন্য শুধু নতুন ডিজাইন নয়, বাজারের সমস্যাকে ঠিকভাবে বুঝে তার সমাধান করাও জরুরি। সেই জায়গাতেই নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন দিল্লির উদ্যোক্তা মোহিতা গুপ্তা ইন্দ্রায়ন (Mohita Gupta Indrayan)। তৈরি পোশাকের মাপ, ডিজাইন এবং দামের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সমস্যাকে কাছ থেকে বুঝে ২০২৩ সালে গুরুগ্রাম থেকে শুরু করেছিলেন ‘স্প্রিং সোল’ (Spring Soul)। আজ ভারতীয় পোশাকের আধুনিক ডিজাইন, কাস্টমাইজেশন এবং ওয়েস্ট-ফ্রি উৎপাদনের মেলবন্ধনে তৈরি এই ব্র্যান্ডের মাসিক আয় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ বছরে প্রায় ৩ কোটি টাকার ব্যবসা করছে সংস্থাটি। আগামী দিনে এই ব্যবসাকে আরও বড় করার লক্ষ্য নিয়েছেন মোহিতা।

মোহিতা গুপ্তার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

তবে ‘স্প্রিং সোল’-এর গল্প শুরু হয়নি ২০২৩ সালে। দিল্লিতে জন্ম ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশেও বড় হয়ে ওঠা মোহিতার পোশাক এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। লেডি শ্রী রাম কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হওয়ার পর তিনি নিফট দিল্লি থেকে অ্যাপারেল মার্কেটিং ও মার্চেন্ডাইজিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর ২০১০ সালে স্বামীর সঙ্গে মিলে শুরু করেন শিশুদের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘৬১২ লীগ’। একসময় সেটি কিডসওয়্যারের ক্ষেত্রে পরিচিত নাম হয়ে উঠলেও করোনা অতিমারির সময় ভৌত দোকাননির্ভর সেই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হয়। সেই ধাক্কা অবশ্য মোহিতার উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছাকে থামাতে পারেনি (Success Story)।

আরও পড়ুন: পুজোর আগে শেষ সুযোগ মৎস্যজীবীদের, শারদীয়ায় এবার পাতে উঠবে ইলিশ?

‘৬১২ লীগ’ বন্ধ হওয়ার পর নতুন করে বাজার বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন মোহিতা। তাঁর নজরে আসে ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে একটি বড় বাজারের ফাঁক। একদিকে সাধারণ তৈরি পোশাকে পছন্দসই মাপ বা ডিজাইন পাওয়া কঠিন, অন্যদিকে স্থানীয় বুটিক বা ডিজাইনারের কাছে গেলে একই ধরনের পোশাকের জন্য অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়। এই দুইয়ের মাঝের জায়গাটিকেই তিনি ব্যবসার সুযোগ হিসেবে দেখেন। সেই ভাবনা থেকেই ২০২৩ সালে গুরুগ্রামে পথচলা শুরু করে ‘স্প্রিং সোল’। লক্ষ্য ছিল, ডিজাইনার পোশাকের মতো দেখতে ও পরতে সুবিধাজনক, পছন্দমতো কাট এবং মাপে তৈরি পোশাক তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী দামে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

ব্যবসার শুরুর সময়েই একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা নতুন দিশা দেখায় মোহিতাকে। গুরুগ্রামের ইউনিটে টানা দু’দিন বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় এবং ছয়জন কারিগরও কার্যত বসে পড়েন। সেই সময় অব্যবহৃত কাপড়ের টুকরোগুলি দিয়ে তুর্কি ধাঁচের গয়না তৈরির সিদ্ধান্ত নেন মোহিতা। তৈরি গয়নার ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর সেগুলি দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। এই ঘটনা শুধু অতিরিক্ত বিক্রির সুযোগ তৈরি করেনি, ব্র্যান্ডের গ্রস মার্জিনও প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়াতে সাহায্য করে। এরপর থেকেই ‘স্প্রিং সোল’ গ্রহণ করে জিরো-ওয়েস্ট ডিজাইন নীতি। পোশাক তৈরির পর বেঁচে যাওয়া কাপড়ের টুকরোও ফেলে না দিয়ে গয়না কিংবা প্যাকেজিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়।

Success Story of Mohita Gupta Indrayan will surprise you.

আরও পড়ুন: ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে কেন হামলা? প্রকাশ্যে ওমানের কো-পাইলটের পরিচয়, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্যও

শুরুতে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে মাত্র ১০০ জন গ্রাহকের কাছে পৌঁছেছিলেন মোহিতা। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে অনলাইন দুনিয়ায়। বর্তমানে মিন্ট্রা, নাইকা ফ্যাশন, টাটা ক্লিক লাক্সারির মতো প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি নিজেদের ওয়েবসাইটেও ব্র্যান্ডের পোশাক পাওয়া যায়। গুরুগ্রামে একটি পরীক্ষামূলক স্টুডিওও পরিচালনা করছেন মোহিতা, যেখানে ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দ বোঝার পাশাপাশি নতুন ডিজাইন নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি টাকার বার্ষিক ব্যবসা করা ‘স্প্রিং সোল’-কে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শেষে ৫ কোটি টাকার বেশি রাজস্বে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। আর আগামী পাঁচ বছরে সেই ব্যবসাকে ১০০ কোটি টাকার ব্র্যান্ডে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি (Success Story)।