বাংলা হান্ট ডেস্ক : নন্দীগ্রামে ভোটের ঠিক একদিন আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের (Milan Pradhan) অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি মিলল। কলকাতা হাই কোর্ট যে জামিন দিয়েছিল, আপাতত তাতে হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। ফলে মঙ্গলবারের উপনির্বাচনে মিলন প্রধানের লড়াই চালিয়ে যেতে কোনও তাৎক্ষণিক আইনি বাধা থাকছে না। একইসঙ্গে, ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় এতদিন গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তিতে মিলন প্রধান (Milan Pradhan)
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ের একাধিক মামলা রয়েছে। সেই মামলাগুলির ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়ার পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রচারের সুযোগ দিতে তিন সপ্তাহের জন্য জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সেই জামিন কার্যকর থাকার কথা এবং পরদিন তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল।
হাই কোর্টের সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। সোমবার মামলাটি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে ওঠে। রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। মিলনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির গুরুত্ব তুলে ধরে তাঁর জামিন বাতিলের আবেদন জানানো হয়। রাজ্যের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন মিলনের আইনজীবী।
শুনানির সময় অবশ্য মামলার অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েই বেশি প্রশ্ন ওঠে। ২০০৭ সালের ঘটনার এত বছর পরও কেন গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়নি, তা জানতে চায় শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, যদি জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন পুলিশ কী পদক্ষেপ করেছিল, সেই প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
নির্বাচনের সময়সূচির বিষয়টিও শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ। তাই ভোটের আগে মিলন প্রধানের জামিন নিয়ে নতুন কোনও পদক্ষেপ না করে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথাই আদালতের তরফে বলা হয়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের অবস্থান ছিল, আপাতত তাঁকে লড়তে দেওয়া হোক এবং ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে দেওয়া হোক।
মামলাটি ৭ অক্টোবর ফের শুনানি হবে।

আরও পড়ুন : কলকাতা থেকে এক বিমানে ইউরোপ? রাজ্যের বিমান পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
এই রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি বলেন, “আমাদের প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিলের যে অপচেষ্টা করেছিল, আজ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই রায়কে আমরা স্বাগত জানাই।” রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছিল যেভাবেই হোক, আজ মিলনের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করিয়ে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করানোর। কিন্তু সেই চক্রান্ত নস্যাৎ হয়ে গিয়েছে।” নির্বাচনের দিন মিলন প্রধানকে নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা আপাতত কাটলেও, পুরনো মামলাগুলিকে ঘিরে পরবর্তী আইনি শুনানি এখনও বাকি।













