বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নিরাপদ ও ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের জন্য পোস্ট অফিসের একাধিক ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প (Post Office Scheme) রয়েছে। এগুলি মার্কেট লিঙ্কড না হওয়ায় ম্যাচিউরিটির পর নিশ্চিত রিটার্ন পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কোন প্রকল্পের রিটার্ন সবচেয়ে বেশি। ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে পোস্ট অফিসের (Post Office) কোন প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন পাওয়া যায় জেনে নিন।
পোস্ট অফিসের পাঁচটি স্কিমের হিসাব | (Post Office Scheme)
পোস্ট অফিসের প্রত্যেকটি স্কিমের মেয়াদ ও সুদের হার আলাদা। বিনিয়োগকারী নিজের প্রয়োজন অনুসারে যে কোনও প্রকল্প বেছে নিতে পারেন।
মান্থলি ইনকাম স্কিম (Monthly Income Scheme)- বিনিয়োগকারী প্রত্যেক মাসে নিশ্চিত আয় চাইলে পোস্ট অফিসের মান্থলি ইনকাম স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারেন। বর্তমানে এই প্রকল্পে বছরে ৭.৪ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। পোস্ট অফিস এমআইএস স্কিমে সিঙ্গেল ও জয়েন্ট দু’ধরণেরই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। কোনও বিনিয়োগকারী মান্থলি ইনকাম স্কিমে ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে মাসে সুদ হিসেবে ৬১৭ টাকা করে পাবেন।
আরও পড়ুনঃ জমা করতে হবে স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারত কার্ড! সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য নয়া নির্দেশ
পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (Public Provident Fund)- যেসব বিনিয়োগকারী দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের জন্য একটি ভালো বিকল্প পোস্ট অফিস পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে এই প্রকল্পে ৭.১ শতাংশ বার্ষিক সুদ পাওয়া যাচ্ছে। পিপিএফে নূন্যতম ১৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে হয়। একটি অর্থবর্ষে সবচেয়ে কম ৫০০ টাকা ও সবচেয়ে বেশি ১.৫ লাখ টাকা জমা করতে পারেন বিনিয়োগকারী। এই প্রকল্পে প্রত্যেক বছর বিনিয়োগ করতে হয়। কোনও বিনিয়োগকারী প্রত্যেক বছর ১ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করলে বর্তমান সুদের হারের হিসেবে ম্যাচিউরিটির সময় ২৭.১২ লাখ টাকা পাবেন।
কিষাণ বিকাশ পত্র (Kisan Vikas Patra)- পোস্ট অফিস কিষাণ বিকাশ পত্রকে অনেকে মানি ডাবল স্কিম বলেন। কারণ এই প্রকল্পে টাকা জমালে ম্যাচিউরিটির সময় দ্বিগুণ রিটার্ন পাওয়া যায়। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে এই প্রকল্পে বার্ষিক ৭.৫ শতাংশ সুদ পাওয়া যাচ্ছে। কিষাণ বিকাশ পত্রে ১ লাখ টাকা রাখলে ম্যাচিউরিটির সময় ২ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।
ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (National Savings Certificate)- পোস্ট অফিস ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটের মেয়াদ পাঁচ বছর। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে এই প্রকল্পে বার্ষিক ৭.৭ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পে প্রত্যেক বছর সুদ জমা হতে থাকে এবং ম্যাচিউরিটির সময় পুরো টাকা পাওয়া যায়। এনএসসিতে ১ লাখ টাকা রাখলে ম্যাচিউরিটির সময় ১,৪৪,৯০৩ টাকা পাওয়া যাবে।

সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (Senior Citizen Savings Scheme)- পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি দারুণ প্রকল্প। বর্তমানে এই স্কিমে সুদের হার ৮.২ শতাংশ। প্রত্যেক তিন মাস অন্তর বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে সুদের টাকা চলে আসে। পাঁচ বছরের এই স্কিমে ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে ম্যাচিউরিটির সময় ১,৪১,০০০ টাকা পাওয়া যাবে।
পোস্ট অফিসের জনপ্রিয়তম প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম এই পাঁচটি। প্রত্যেকটি প্রকল্পের আলাদা আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। বিনিয়োগকারী নিজের সুবিধা মতো যে কোনও একটি বেছে নিতে পারেন।













