বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর (Durga Puja) কাউন্টডাউন শুরু। কোন দিন কোথায় ঠাকুর দেখতে যাবেন, কোন পোশাকে সাজবেন, তার পরিকল্পনাও নিশ্চয়ই প্রায় তৈরি। নবরাত্রিতে দেবী দুর্গার নয়টি রূপের আরাধনার পাশাপাশি প্রতিদিন আলাদা রঙের পোশাক পরার চলও রয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে কোন দিন কোন রঙের পোশাক পড়া শুভ জেনে নিন।
পুজোর (Durga Puja) কোন দিনে কোন রঙের পোশাক পরবেন ?
প্রথমাতে দেবী শৈলপুত্রীর পুজো হয় দেবীর এই রূপকে শক্তি ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে মানা হয়। প্রথম দিনের সাজে হলুদ রং বেছে নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। উজ্জ্বল এই রং পুজোর আমেজের সঙ্গেও বেশ মানানসই। দ্বিতীয়াতে আরাধনা করা হয় দেবী ব্রহ্মচারিণীর। তপস্যা, আত্মসংযম ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর রূপের সম্পর্ক রয়েছে। এই দিনের জন্য সবুজ রং নির্ধারিত বলে প্রচলিত বিশ্বাস। শাড়ি, কুর্তি কিংবা অন্য পোশাকে সবুজের ছোঁয়া রাখতে পারেন।
তৃতীয়াতে পুজো পান দেবী চন্দ্রঘণ্টা। সাহস ও শক্তির প্রতীক হিসেবে তাঁর আরাধনা করা হয়। এই দিনের সাজে ধূসর বা স্লেট রঙের পোশাক বেছে নেওয়ার রীতি রয়েছে। অন্য রঙের সঙ্গে ধূসর মিলিয়েও তৈরি করতে পারেন পুজোর সাজ। দুর্গা পুজোর চতুর্থীতে আরাধ্য দেবী কুষ্মাণ্ডা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, তাঁর পুজোয় ভক্তরা সুখ, সমৃদ্ধি ও অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তি কামনা করেন। কমলা রং উদ্যম ও প্রাণশক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাই এই দিনের পোশাকে কমলা রং রাখতে পারেন।
পঞ্চমীতে পুজো করা হয় দেবী স্কন্দমাতার। মাতৃত্ব, স্নেহ ও সুরক্ষার সঙ্গে তাঁর আরাধনা জড়িত। এই দিনের রং হিসেবে সাদাকে শুভ মনে করা হয়। সাদা পোশাকে যেমন সাবেকি সাজ তৈরি করা যায়, তেমনই রঙিন গয়না দিয়ে সাজে আনা যায় বৈচিত্র্য। দেবী কাত্যায়নীর পুজো হয় ষষ্ঠীতে। শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে তাঁকে মানা হয়। এই দিনে লাল রঙের পোশাক পরার প্রচলন রয়েছে। পুজোর চিরাচরিত সাজে লাল শাড়ি কিংবা লাল রঙের অন্য পোশাক বেছে নিতে পারেন।
নবরাত্রির রঙের প্রচলিত তালিকায় সপ্তমীর সঙ্গে নীল রং যুক্ত। এই দিনে আরাধনা করা হয় দেবী কালরাত্রির, যাঁকে অশুভ শক্তির বিনাশকারী হিসেবে পুজো করা হয়। নীল রঙের পোশাক দিয়ে সাজে আনতে পারেন অন্য রকম ছোঁয়া। অষ্টমীর আরাধ্য দেবী মহাগৌরী। পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও শান্তির প্রতীক হিসেবে তাঁর পুজো করা হয়। এই দিনের জন্য গোলাপি রং বেছে নেওয়ার রীতি রয়েছে। অষ্টমীর অঞ্জলি কিংবা সন্ধ্যার সাজে গোলাপি পোশাক হতে পারে পছন্দের বিকল্প।

আরও পড়ুন : ৪ জন না ৫ জন, টোটোয় মোট কতজন যাত্রী তোলা যায়? সঠিক নিয়ম জানুন
নবমী অর্থাৎ পুজোর শেষ দিনে পুজো করা হয় দেবী সিদ্ধিদাত্রীর। সিদ্ধি, জ্ঞান ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ কামনায় তাঁর আরাধনা করেন ভক্তরা। এই দিনের সঙ্গে বেগুনি রঙের পোশাকের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রচলিত বিশ্বাস। নবমীর সাজে এই রং বেছে নিতে পারেন।
পুজোর প্রতিটি দিনেই সাজে থাকতে পারে আলাদা আমেজ। কখনও হলুদের উজ্জ্বলতা, কখনও লালের ঐতিহ্য, আবার কখনও নীল বা বেগুনির বৈচিত্র্য—নিজের পছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করুন উৎসবের সাজ।














