Durga Puja 2026 Live Updates

সমুদ্রপথে এবার ভারতের মাস্টারস্ট্রোক! বাণিজ্যের নতুন প্রবেশদ্বার হতে চলেছে আন্দামান-নিকোবর

Published on:

Published on:

Andaman and Nicobar Islands set to become India's new trade gateway.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার জেরে পণ্য পরিবহণের বিষয়টি যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছে। এমতাবস্থায়, গ্লোবাল ট্রেডে বিঘ্নের মধ্যেই নৌপথ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি বন্দর সংযোগ বৃদ্ধি করতে এবং শক্তিশালী সাপ্লাই চেন গড়ে তোলার ওপর মনোযোগ দিয়ে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসাবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের (Andaman and Nicobar Islands) ভূমিকাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত (India)। মূলত, ‘আন্দামান ডায়লগ ২০২৭’-এর একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগটি ঘোষণা করা হয়। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে এই অনুষ্ঠানে ১৫ টিরও বেশি দেশ থেকে কূটনীতিক, সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ, সরকারি আধিকারিক এবং শিল্প প্রতিনিধিরা একত্র হয়েছিলেন।
২০২৭ সালের ১২ থেকে ১৪ মার্চ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের স্বরাজ দ্বীপে সম্পন্ন হওয়া এই আলোচনায় ভারত মহাসাগর এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক পরিকাঠামো, বাণিজ্য সংযোগ এবং অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার ওপর আলোকপাত করা হবে। একটি রেকর্ড করা বার্তার মাধ্যমে সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সেতু হিসাবে দ্বীপপুঞ্জটির সম্ভাবনার ওপর জোর দেন। বাণিজ্য, ডিজিটাল পরিকাঠামো লজিস্টিকস, শিপিং, এবং ফাইন্যান্সের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গ্লোবাল সাপ্লাই চেনে ক্রমবর্ধমান বিঘ্ন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্ব, সুরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও শক্তিশালী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

বাণিজ্যের নতুন প্রবেশদ্বার হতে চলেছে আন্দামান-নিকোবর (Andaman and Nicobar Islands):

প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান ব্লু প্রিন্ট পেশ করেন: জানিয়ে রাখি যে, ন্যাশনাল মেরিটাইম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে. ত্রিপাঠি বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিককে সংযোগকারী প্রধান জাহাজ চলাচল পথের কাছে দ্বীপপুঞ্জের কৌশলগত অবস্থানের ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি বন্দর সংযোগ থেকে শুরু করে সামুদ্রিক নজরদারি, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ মেরামত এবং নাবিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নিরাপদ সমুদ্রপথের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৫-২৬ সালে ভারত-ASEAN বাণিজ্য প্রায় ১২৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে, যা ভারতের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১১ শতাংশ। তিনি দক্ষিণ-পূর্বের এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে শক্তিশালী সামুদ্রিক সম্পর্কের অর্থনৈতিক গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এছাড়াও, তিনি ‘ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টার-ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়ন’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার রূপরেখাও তুলে ধরেন, যেখানে বর্তমানে প্রায় ১৬-১৭ টি অংশীদার দেশের আধিকারিকরা রয়েছেন। ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যাটি বাড়িয়ে ৫০-এ বৃদ্ধি করাই লক্ষ্য।

Andaman and Nicobar Islands set to become India's new trade gateway.

উল্লেখ্য যে, TV9-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাডমিরাল দীনেশ কে. ত্রিপাঠি আন্দামান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বন্দর ও সামুদ্রিক শিল্পের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। পরিকাঠামোর বিষয়ে তিনি ভারতের জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক খাতের জন্য ৬৯,৭২৫ কোটি টাকার প্যাকেজ এবং ইন্ডিয়া মেরিটাইম উইক চলাকালীন ঘোষিত প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি নৌ ও বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণের আন্তঃসম্পর্কের ওপরও জোর দেন। কারণ উভয়ক্ষেত্রই একই ধরনের শিল্প সক্ষমতা, দক্ষ কর্মী এবং সাপ্লাই চেনের ওপর নির্ভরশীল।

আরও পড়ুন: Airtel-এর গ্রাহকদের জন্য সুখবর! লঞ্চ হল ৩৪৮ টাকার নতুন প্রিপেইড প্ল্যান, মিলবে Adobe-এর সাবস্ক্রিপশন

কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা: এই অনুষ্ঠানটিতে সিঙ্গাপুর থেকে শুরু করে মলদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, জিবুতি, সেশেলস, মরিশাস, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ফোরাম ফর ইন্টিগ্রেটেড ন্যাশনাল সিকিউরিটি (FINS) এবং সেন্টার ফর ডোমেস্টিক ইকোনমি পলিসি রিসার্চ (C-DEP) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চ আধিকারিক এবং সামুদ্রিক শিল্প প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: আরও শক্তিশালী হবে সামুদ্রিক নজরদারি! ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে প্রথম মাল্টি-পার্পস ওয়ারশিপ ‘সমর্থক’

ওই আলোচনায় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। যেখানে ব্যবসা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী এবং প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বে অভিন্ন নীতিগত অগ্রাধিকারগুলিকে রূপান্তরের উপায়গুলো বিবেচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে (যেমন সমুদ্রগর্ভস্থ কেবল) প্রভাবিত করে এমন ঝুঁকিগুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক ও নিয়ম-ভিত্তিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। এমতাবস্থায়, আগামী ‘আন্দামান ডায়লগ’-এ আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থনকারী সামুদ্রিক সম্পদ ও পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত সহযোগিতার ওপর আলোকপাত করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।