বাংলা হান্ট ডেস্ক : মালদার (Malda) আমের সুখ্যাতি বহুদিনের। এবার সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জেলার আমের আরও বড় জায়গা করে দিতে চাইছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। বিপুল পরিমাণে আম উৎপাদন হলেও বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে মালদা। সেই ছবি বদলাতেই আগামী আমের মরশুমকে সামনে রেখে কোমর বাঁধছে জেলা প্রশাসন। লক্ষ্য, রফতানির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি মালদাকে ভারতের ‘আম রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
মালদার আম নিয়ে বড় পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)
লক্ষ্য পূরণে শুধু উৎপাদন বাড়ানোর উপর নির্ভর করছে না প্রশাসন। আম চাষের পর থেকে বাজারে পৌঁছনো পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে উন্নতির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, উদ্যানপালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, আম প্রক্রিয়াকরণে বাড়তি সুযোগ এবং সংরক্ষণের জন্য কোল্ড-চেইন পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। উৎপাদকদের সঙ্গে বাজারের যোগাযোগ আরও মজবুত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম অংশ। পাশাপাশি ‘আমার মালদা’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে জেলার আমের পরিচিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইংলিশবাজারের ফুড পার্ককে ব্যবহার করে প্রক্রিয়াকরণ ও বিদেশে পণ্য পাঠানোর সুযোগ কতটা বাড়ানো যায়, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে।
সম্প্রতি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন দফতরের প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু জেলা প্রশাসনকে আগামী মরশুমে আম রফতানি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলেছেন। বিদেশে আম পাঠানোর প্রক্রিয়া যাতে আরও সহজ হয়, সেই বিষয়েও উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এরপরই প্রশাসনের তরফে মন্ত্রীর কাছে পাঁচ মাসের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। মালদার আমের ব্যবসার ব্যাপ্তি বুঝতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৯৬ হাজার ৬০০ জন কৃষক মোট ৩১ হাজার ৯৫৮ একর বাগানে আম ফলান। চাষের বাইরেও ফলটির উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে বড় কর্মক্ষেত্র। প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং-সহ আমকেন্দ্রিক নানা কাজে যুক্ত রয়েছেন আনুমানিক পাঁচ লক্ষ মানুষ। সব মিলিয়ে জেলায় বছরে প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়।
কিন্তু এত বড় উৎপাদনের তুলনায় বিদেশে রফতানির পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। প্রাথমিক হিসাব বলছে, এতদিন মালদা থেকে বছরে মাত্র ৩০ থেকে ৬০ মেট্রিক টন আম বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে রফতানির পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়াতে চাইছে প্রশাসন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিদেশি বাজারে মালদার আমের বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় চাষিদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়বে।
বিদেশে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি আমের স্বতন্ত্র পরিচিতি প্রতিষ্ঠার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। মালদার কয়েকটি জাতের জিআই বা ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে প্রশাসন। বর্তমানে ফজলি, হিমসাগর ও লক্ষণভোগ আম জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার ল্যাংড়া, মল্লিকা এবং আম্রপালির মতো জাতগুলিকেও এই স্বীকৃতির আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।