বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) সিঙ্গেল বেঞ্চের তরফে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য শর্তসাপেক্ষে বনগাঁয় সিপিএমকে বুকস্টল (CPM Book Stall) বসানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। শুক্রবার সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, টেবিল-ছাতা পেতে স্টলেও অনুমতি মিলবে না।
সিপিএমের বুকস্টলে ‘না’ হাইকোর্টের | (Calcutta High Court)
এদিনের শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে প্রশ্ন করেন, “অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন দেখান? যদি আবেদনে অনুমতি না পেয়ে থাকেন, তাহলে পুলিশ কী করতে পারে?”
আরও পড়ুনঃ কলকাতা-শিলিগুড়ি যাতায়াত আরও সহজ! রয়্যাল ক্রুজারের প্রিমিয়াম স্লিপার বাসে কী কী সুবিধা মিলবে জানুন
সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন, “হাইওয়ে অথরিটি ও পিডব্লিউডির কাছে অনুমতি চেয়ে ইমেল করা হয়।“ পুলিশের কাছেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন মামলাকারীর আইনজীবী।
এরপরেই রাস্তার ধারের সব স্টল তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “রাস্তার ধারে সব স্টল তুলে দাও। অনুমতি না থাকলে কারোর স্টলের দরকার নেই। আইনের চোখে সকলে সমান। বুকস্টল কোথায়? রাস্তার উপরে?”
উত্তরে সিপিএমের আইনজীবী জানান, দলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে। প্রধান বিচারপতি তখন জানতে চান, তাঁদের বুকস্টল কি রাস্তার বাকি স্টলগুলির মতো একই লাইনে আছে নাকি একটু রাস্তার উপর চেপে আছে? মামলাকারীর তরফে জানানো হয়, বাকি স্টলগুলির মতো একই লাইনে আছে।
অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, বাকি স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কিনা জানা নেই। প্রধান বিচারপতি তখন স্পষ্ট জানান, “হাইকোর্ট সরাতে নির্দেশ দেবে। আইনের চোখে সমতা থাকা দরকার। সব স্টল তুলে দিন।“
সিপিএমের আইনজীবী তখন বলেন, বিচারপতি ভট্টাচার্যের সিঙ্গেল বেঞ্চও একই পর্যবেক্ষণ রেখেছে। রাজ্যের তরফে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, আইনের চোখে কোনও অনুমতি ছাড়া বুকস্টল কীভাবে সম্ভব?
সিপিএমের আইনজীবী তখন মাইক-মাইক্রোফোন ছাড়া বুকস্টলের অনুমতির আবেদন জানান। তিনি বলেন, “পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। আর ৩-৪ দিন মতো আছে। বুকস্টল চালাতে দেওয়া হোক। কোনও মাইক্রফোন, মাইক ব্যবহার না করে বুকস্টল করার অনুমতি দেওয়া হোক।“
সিপিএমের আইনজীবী শেষ প্রস্তাব দিয়ে বলেন, দলীয় কার্যালয়ের সামনে টেবিল পেতে ৫ ফুট লম্বা স্টল করতে দেওয়া হোক। ছাউনির দরকার নেই। ছাতা ও টেবিল পেতে বুকস্টল করতে দেওয়া হোক। এই প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল।

এজি বলেন, “বনগাঁ থাকার আইসি এজলাসে আছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ৬ কিমি।“ এরপরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে ছাতা-টেবিল পেতে স্টলও করতে দেওয়া হবে না।
সিপিএমের বুকস্টল সংক্রান্ত এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২১ জানুয়ারি। মামলায় যুক্ত সব পক্ষকে নোটিশ দিতে বলেছে কলকাতা হাইকোর্ট।














