বাংলা হান্ট ডেস্ক : আরজি কর কান্ডে (RG Kar Case) ন্যায়বিচারের এখনও মেলেনি। তার মধ্যেই হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জামিন দিয়েছে। এই জামিনকে ঘিরে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব কিছুর মাঝেই মুখ খুললেন নির্যাতিতার বাবা । তাঁর বক্তব্য, জামিনের সিদ্ধান্তে তাঁদের লড়াই থেমে যাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই। বিচারের দাবি পূরণ না হলে আবারও আন্দোলনের পথে নামতে পারেন তাঁরা।
আরজি কর কান্ডে (RG Kar Case) কী বললেন নির্যাতিতার বাবা?
ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, “লড়াই আমাদের চলবে। প্রয়োজনে আন্দোলন করতে হবে। বিচার আমাদের চাই।” নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ বা ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক তাঁদের দাবি থেকে সরিয়ে দিতে পারবে না। নির্যাতিতার মা বর্তমানে পানিহাটি কেন্দ্রের বিধায়ক। এই প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থা ব্যাখ্যা করে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “সরকারে থাকলে কী হয়েছে? সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাই না। বিচারের জন্য যা প্রয়োজন, তাই করব।”
উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগ সামনে এসেছিল তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত চলাকালীন। হাসপাতালের সরকারি অর্থ বিভিন্ন ঠিকাদারের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই মামলার তদন্তে সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করে সিবিআই। ২০২৪ সালের ২৪ অগস্ট সিবিআইয়ের কলকাতা দুর্নীতি দমন শাখা মামলাটি দায়ের করে। পরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং জাল নথি সংক্রান্ত একাধিক ধারায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
এই মামলায় সন্দীপ ঘোষের জামিনের আবেদন কলকাতা হাইকোর্টে খারিজ হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান তাঁর আইনজীবীরা। শুক্রবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের পরই নির্যাতিতার পরিবারের তরফে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা সামনে আসে।

আরও পড়ুন : পুজোয় রাতভর যাতায়াতের সুবিধা, কৃষ্ণনগর-রানাঘাট শাখায় বাড়তি ট্রেন
সন্দীপ ঘোষের জামিনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের একাংশও। চিকিৎসক অনিকেত মাহাতর অভিযোগ, তদন্তের ধীর গতির প্রভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ‘জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট’-ও সমাজমাধ্যমে বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দিতে না পারার দায় সিবিআই এড়াতে পারে না। তদন্তের এই পরিস্থিতিতে কার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা।














