Durga Puja 2026 Live Updates

৭৫ বারের প্রত্যাখ্যানেও বজায় জেদ! অভিনব আইডিয়ায় ব্যবসা গড়ে বার্ষিক ৪.৫ কোটি আয় দীপ-লক্ষ্যের

Published on:

Published on:

Success Story of Laksh and Deep will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টেক্সটাইল বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড়সড় সমস্যা তৈরি করে। সেই বর্জ্যকেই সম্পদে পরিণত করে সফল (Success Story) ব্যবসার নতুন দিশা দেখাচ্ছেন আহমেদাবাদের দুই তরুণ উদ্যোক্তা লক্ষ্য শর্মা (Laksh Sharma) ও দীপ সাংঘানি (Deep Sanghani)। বাতিল কাপড় থেকে তৈরি করছেন এমন এক ধরনের কম্পোজিট বোর্ড, যা প্লাইউড, এমডিএফ এমনকি মার্বেলেরও বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তাঁদের স্টার্টআপ ‘রি-ভার্স’ (Re-verse) ইতিমধ্যেই ব্যবসার দুনিয়ায় নজর কেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থাটির রাজস্বের পরিমাণ ৪.৫ কোটি টাকা। তবে এই সাফল্য একদিনে আসেনি। শুরুতে তাঁদের ভাবনার উপর আস্থা রাখতে চাননি ৭৫ জন বিনিয়োগকারী। কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যানকে বাধা না ভেবে নিজেদের প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার উপর ভরসা রেখেই এগিয়ে গিয়েছেন দুই তরুণ।

লক্ষ্য ও দীপের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

লক্ষ্য ও দীপের প্রথম পরিচয় হয় ২০২৪ সালের মার্চ মাসে, আহমেদাবাদের একটি স্টার্টআপ সম্মেলনে। সেই সময় লক্ষ্য পড়াশোনা করছিলেন ওয়েবস্টার ইউনিভার্সিটিতে। অন্যদিকে, জয়পুরের মালব্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন দীপ। কথাবার্তার সূত্রেই তাঁদের মাথায় আসে টেক্সটাইল বর্জ্য নিয়ে কাজ করার ভাবনা। ভারতে প্রতি বছর ৭০ লক্ষ টনেরও বেশি টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হয় বলে তাঁদের দেওয়া তথ্য। এই বিপুল বর্জ্যের একটি কার্যকর সমাধান খুঁজতে গিয়েই তাঁরা বুঝতে পারেন, বাতিল কাপড়কে সঠিক প্রযুক্তির সাহায্যে নির্মাণশিল্পের উপযোগী উপাদানে রূপান্তরিত করা সম্ভব। সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতেই ২০২৪ সালের জুন মাসে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন ‘রি-ভার্স’। তবে প্রথম দিকে বহু বিনিয়োগকারী তাঁদের ধারণা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, কাপড়ের বর্জ্য দিয়ে তৈরি বোর্ড কাঠ বা প্লাইউডের মতো মজবুত হবে না (Success Story)।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলে ফের বাজিমাত বামপন্থীদের! ইতিহাস গড়ে চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন লুলা দ্য সিলভা

প্রাথমিক বাধা পেরিয়ে লক্ষ্য ও দীপ নিজেদের উদ্যোগকে বাস্তব রূপ দিতে অর্থ সংগ্রহ করেন পারিবারিক বন্ধুদের কাছ থেকে। পরবর্তীতে সংস্থাটি ৯.৫ কোটি টাকার একটি প্রাতিষ্ঠানিক সিড ফান্ডিং রাউন্ড সম্পন্ন করে। এর ফলে সংস্থাটির মূল্যায়ন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা। উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে আহমেদাবাদের পিরানা শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুটের একটি কারখানা গড়ে তোলা হয়। সেখানে তাইওয়ানের সংস্থা WYNIST-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তাঁদের ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড ‘উইনিক্স’-এর অধীনে বোর্ড উৎপাদন শুরু হয়। এই বোর্ড তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ৭০ শতাংশ টেক্সটাইল বর্জ্য এবং ৩০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব বায়ো-বাইন্ডার। আট ফুট বাই চার ফুট মাপের এই কম্পোজিট বোর্ডগুলি নির্মাণ ও অভ্যন্তরীণ সজ্জার কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।

২০২৫ সালের নভেম্বরে বাণিজ্যিকভাবে পণ্য বিক্রি শুরু করে ‘রি-ভার্স’। অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৩০ জন বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। সংস্থার দাবি, তাদের তৈরি বোর্ড জলরোধী, উইপোকা-প্রতিরোধী, অগ্নি ও দাগ প্রতিরোধে সক্ষম এবং যথেষ্ট মজবুত। ফলে প্রচলিত প্লাইউড ও এমডিএফের পাশাপাশি মার্বেলের বিকল্প হিসেবেও এগুলিকে তুলে ধরা হচ্ছে। ব্যবসার ক্ষেত্রেও সংস্থাটি আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গ্রস প্রফিট মার্জিন প্রায় ৫৪ শতাংশ। পরিবেশগত দিক থেকেও এই উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে। টেক্সটাইল বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদানে পরিণত করার ফলে তা ল্যান্ডফিলে জমার পরিমাণ কমাতে পারে। পাশাপাশি, সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, তাদের পণ্যের ব্যবহারে প্রতি বছর ১০ লক্ষেরও বেশি গাছ কাটা এড়ানো সম্ভব।

Success Story of Laksh and Deep will amaze you.

আরও পড়ুন: রেলে ৩০ হাজার চাকরির সুযোগ! Group D-র নোটিফিকেশন কবে প্রকাশিত হবে জানুন

বর্তমানে জার্মানির মতো ইউরোপীয় বাজারেও নিজেদের পণ্য রপ্তানি করছে ‘রি-ভার্স’। আগামী দিনে উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। সেই লক্ষ্য পূরণে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর উপরেও জোর দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতারা। আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে মাসিক উৎপাদন ক্ষমতা ১.২ লক্ষ বর্গফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ বর্গফুটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি, বার্ষিক রাজস্ব ১০০ কোটি টাকার গণ্ডি পেরোনোর লক্ষ্যমাত্রাও স্থির করেছেন তাঁরা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আরও বড়—আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৮,০০০ কোটি টাকা মূল্যায়নের সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এবং আইপিও আনার স্বপ্ন দেখছেন দুই উদ্যোক্তা। ৭৫ জন বিনিয়োগকারীর প্রত্যাখ্যান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পা রাখা—লক্ষ্য ও দীপের এই যাত্রা দেখাচ্ছে, পরিবেশগত সমস্যার সমাধানের ভাবনাও সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির হাত ধরে ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে (Success Story)।