বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের (Teacher Recruitment) প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যেই নতুন নিয়ম আনার সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকার জানিয়েছে, যাঁরা নতুন করে শিক্ষকতার চাকরি পাবেন, তাঁরা সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। তবে বর্তমানে যাঁরা শিক্ষকতা করছেন এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
Teacher Recruitment : নতুন শিক্ষকদের জন্য কী নিয়ম আনছে সরকার?
নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে ৪ হাজার ৪৩২ জন, উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ৬ হাজার ৫২ জন এবং মাধ্যমিক স্তরে ১২ হাজার ৩৪৩ জন সহ-শিক্ষক নিয়োগ (Teacher Recruitment) করা হবে। নতুন নিয়োগের নিয়মের মধ্যেই শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি যুক্ত করা হবে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও এই নতুন নিয়ম রাখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁরা আগে থেকেই শিক্ষকতা করছেন এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে না। কিন্তু নতুন করে যাঁরা শিক্ষকতার চাকরি পাবেন, তাঁরা সরাসরি রাজনীতি করতে পারবেন না। তাঁর বক্তব্য, কেরল ছাড়া অন্য কোনও রাজ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত থাকতে দেখা যায় না। তাই বাংলাতেও এই নিয়ম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি এবং শিক্ষকতার পেশার সম্মান বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছে একাধিক শিক্ষক সংগঠন।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী জানিয়েছেন, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পরিচালিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর আরও প্রশ্ন, শিক্ষকদের যাতে প্রতিবাদ করতে সমস্যা হয়, সেই কারণেই কি এই সিদ্ধান্ত? কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও শিক্ষকরা নিজেদের দাবি জানালে, সেটাকেও কি রাজনীতি বলে ধরা হবে?

আরও পড়ুনঃ ৪৫ হাজার টাকা বেসিক পে থেকে HRA, সপ্তম পে কমিশনে রাজ্য সরকারি কর্মীদের দাবি কী কী?
অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষকরা যদি পড়াশোনার কাজ ঠিকভাবে করেন, তাহলে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে সমাজেরই ভালো হতে পারে (Teacher Recruitment)।














