বাংলা হান্ট ডেস্ক : লোকসভা ও বিধানসভায় SC/ST আসন নিয়ে মামলা উঠেছিল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। সংরক্ষিত আসন নির্দিষ্ট সময় অন্তর বদলানোর বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাইলেও মিলল না অনুমতি। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, সংরক্ষিত আসন ঘুরিয়ে দেওয়ার নিয়ম তৈরি করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংসদের।
কী বলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ?
বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা। আবেদনকারী জগদীশ সিংয়ের বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর জেলার ১৯১ নম্বর কাদিপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি তৈরি হওয়ার পর থেকে প্রায় সাত দশক ধরে SC সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। ফলে সাধারণ শ্রেণির প্রার্থীদের ওই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, এত দীর্ঘ সময় ধরে একই আসন সংরক্ষিত রাখার ফলে সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জগদীশ সিং নিজে ওই কেন্দ্রের ভোটার। তাঁর আবেদন ছিল, লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সংরক্ষিত আসন নির্দিষ্ট ব্যবধানে বদলানোর ব্যবস্থা চালু করা হোক। কারণ, পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই এই ধরনের রোটেশন পদ্ধতি রয়েছে। সংবিধানের ২৪৩ডি এবং ২৪৩টি অনুচ্ছেদে স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থার আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে আসন বদলের সুযোগ রাখা হয়েছে। তাহলে দেশের সংসদীয় ও বিধানসভা নির্বাচনে একই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন : মানত করলেই মেলে চাকরি? বাঁকুড়ার ‘সার্ভিস কালী’ মন্দিরের মাহাত্ম্য জানলে অবাক হবেন
আবেদনকারীর যুক্তি খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সংরক্ষণের উদ্দেশ্য এবং ভোটদানের প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করেন। বিচারপতি বলেন, “বহুদলীয় গণতন্ত্রে ভোটাররা কোনও প্রার্থীর জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে ভোট দেবেন, এমনটাই প্রত্যাশিত। কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় SC/ST জনসংখ্যা বেশি বলে সেই কেন্দ্র সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। তা থেকেই যে জাতপাতের বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।”
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও স্পষ্ট করে দেন, আবেদনকারী যে জায়গায় প্রতিকার চাইছেন, সেটি আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। এ প্রসঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “আপনি ভুল নম্বর ডায়াল করেছেন।” আদালতের বক্তব্য, লোকসভা ও বিধানসভার সংরক্ষিত আসনে রোটেশন চালু করতে হলে সংসদকেই সেই বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে হবে। বিচারবিভাগ নিজে থেকে সংসদকে নতুন আইন তৈরির নির্দেশ দিতে পারে না।
আরও পড়ুন : রবীন্দ্র সরোবরে ফের ছটপুজোর পরিকল্পনা! পুণ্যার্থীদের সুবিধায় একগুচ্ছ ঘোষণা অগ্নিমিত্রার
সংবিধানের ৩৩০ ও ৩৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় SC/ST সম্প্রদায়ের জন্য আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোন নিয়মে কেন্দ্রগুলি বেছে নেওয়া হবে কিংবা কতদিন পর সেগুলির সংরক্ষণের ধরন পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পদ্ধতি নির্ধারণের দায়িত্ব সংসদের। তাই এই ক্ষেত্রে আদালতের কাছে আইন বদলের নির্দেশ চাওয়ার সুযোগ নেই বলেই জানানো হয়েছে। মামলায় ২০০২ সালের ডিলিমিটেশন আইনের ৯(১)(সি) ধারার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই ধারায় কোনও এলাকার SC/ST জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনা করে সংরক্ষিত নির্বাচনী কেন্দ্র চিহ্নিত করার বিধান রয়েছে। আবেদনকারী এই পদ্ধতির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই আইন বহাল রেখেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্টেও একই বিষয়ে আবেদন করেছিলেন জগদীশ সিং। সেখানেও সংরক্ষিত আসন ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ মেলেনি এবং সংশ্লিষ্ট আইনের বৈধতা বজায় রাখা হয়েছিল। এবার সুপ্রিম কোর্টও হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন মনে করেনি।












