বাংলাহান্ট ডেস্ক : আর এক সপ্তাহও বাকি নেই দীপাবলি (Diwali 2026) আসতে। মা কালীর আরাধনার সঙ্গে সঙ্গে আলোর উৎসবেও মেতে উঠবে সকলে। ধনতেরস, কালীপুজোর আগের দিন অর্থাৎ ভূত চতুর্দশী, দীপাবলি এবং ভাইফোঁটা এই চার দিন প্রদীপ জ্বালানো হয় বাড়িতে। তবে এই চারদিন আলাদা আলাদা সংখ্যার প্রদীপ জ্বালানো হয়ে থাকে। প্রতিটির পেছনেই রয়েছে কিছু ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব।
ধনতেরসে কতগুলি প্রদীপ (Diwali 2026) জ্বালানো হয়?
আগামী ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরস। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথির জন্য ১৩ টি প্রদীপ জ্বালানো হয় এদিন। প্রথম প্রদীপটি জ্বালানো হয় দক্ষিণ দিকে মুখ করে যমরাজের জন্য। পরিবারের সদস্যদের বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করতে এই প্রদীপটি জ্বালানো হয় বলে বিশ্বাস। এছাড়া স্বাস্থ্য, মা লক্ষ্মী ও কুবেরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোট ১৩ টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, এই ১৩ প্রদীপ বছরের ১৩ টি চান্দ্রমাসের প্রতীক।

ভূত চতুর্দশীতে ১৪ প্রদীপ: এরপর ৭ নভেম্বর, শনিবার ভূত চতুর্দশী। এদিন বাড়িতে ১৪ টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর রাতে আমাদের গত ১৪ জন্মের পূর্বপুরুষ মর্ত্যে নেমে আসেন বংশধরদের আশীর্বাদ করতে। ১৪ প্রদীপ (Diwali 2026) জ্বালিয়ে পূর্বপুরুষদের শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। মনে করা হয়, এদিন প্রদীপ জ্বাললে কোনও অশুভ শক্তি কাছে ঘেষতে পারবে না। এদিন ১৪ শাক খাওয়ার নিয়মও রয়েছে।
আরও পড়ুন : অষ্টম বেতন কমিশনের এক বছর, নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা কবে? অপেক্ষায় কর্মচারীরা
দীপাবলিতে কটি প্রদীপ: দীপাবলি ৯ নভেম্বর, সোমবার। এদিন ২১ টি প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। এদিন পূজিত হন ধন সম্পদের দেবী মা লক্ষ্মী ও গণেশ। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, অমাবস্যার অন্ধকারে মা লক্ষ্মী নেমে আসেন মর্ত্যে। তাঁকে স্বাগত জানাতে ২১ টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। আবার আরও একটি মত শোনা যায়। লঙ্কাজয়ের পর ১৪ দিনের বনবাস শেষ করে এদিন শ্রীরাম, মা সীতা ও লক্ষ্মণ অযোধ্যায় ফিরেছিলেন। তাঁদের স্বাগত জানাতে পুরো অযোধ্যা নগরী প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়েছিল। বিশ্বাস অনুযায়ী, ৫ টি জ্ঞানেন্দ্রিয়, ৫ টি কর্মেন্দ্রিয়, ৫ টি প্রাণ, ৫ টি উপাদান ও ১ টি মন বা আত্মার শুদ্ধিকরণের জন্য মোট ২১ টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।
আরও পড়ুন : দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান, আগামী বছর থেকেই এগোচ্ছে ICSE পরীক্ষার সময়
এরপর ১১ নভেম্বর, বুধবার ভাইফোঁটার দিন ৫ টি প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। এই ৫ টি প্রদীপ হল পঞ্চভূতের প্রতীক। ৫ টি মূল উপাদান অর্থাৎ ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম ভাইয়ের রক্ষাকর্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আবার অনেকের মতে, ৫ প্রদীপ ৫ দিক থেকে আসা সব বিপদ থেকে ভাইকে রক্ষা করে।












