বাংলা হান্ট ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতে পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও মসৃণ এবং গতিশীল করে তোলা হচ্ছে। এদিকে, দেশে ইতিমধ্যেই জোরকদমে চলছে, বুলেট ট্রেন (Bullet Train) প্রকল্পের কাজ। ঠিক এই আবহেই একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, মুম্বাই ও আহমেদাবাদের মধ্যে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের টানেল নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) আগামী ৫ জুলাই তথ্য মুম্বাইয়ের (Munbai) ভিখরোলি থেকে বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্স (বিকেসি) স্টেশন পর্যন্ত একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ খননের কাজের উদ্বোধন করবেন। জানিয়ে রাখি যে, মুম্বাই ও আহমেদাবাদের মধ্যে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পে প্রথমবারের মতো টানেল বোরিং মেশিন (TBM) ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মোট ২০.৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ হবে এবং এর ৭ কিলোমিটার অংশ সমুদ্রের ভেতর দিয়ে যাবে।
বুলেট ট্রেনের (Bullet Train) জন্য তৈরি হচ্ছে সমুদ্রের নিচে সুড়ঙ্গ!
৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশ সমুদ্রের নিচে থাকবে: উল্লেখ্য যে, এই প্রকল্পের জন্য জার্মানিতে বিশেষভাবে নির্মিত ২ টি টানেল বোরিং মেশিন (TBM) চলতি বছরের মার্চ মাসে চিন থেকে সমুদ্রপথে আমদানি করা হয়েছিল। এই TBM-গুলির মালিক আফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এই সংস্থাটি মোট ২০.৩৭ কিলোমিটার টানেল নির্মাণ করছে। যার ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশ জলের নিচে তথা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৫ মিটার গভীরে নির্মাণ করা হবে।

এই টানেলটি বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্স এবং শিলফাটাকে সংযুক্ত করবে: টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে টানেলটির ১৫.৪ কিলোমিটার খনন করা হবে এবং বাকি অংশ ইতিমধ্যেই ব্লাস্টিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ২ টি মেশিনের মধ্যে একটি মেশিন ৫.৮ কিলোমিটার অংশ খননের দায়িত্বে থাকবে, আর অন্য মেশিনটি আরও দীর্ঘ একটি অংশে কাজ করবে। যার মধ্যে সমুদ্রের নিচের অংশটিও অন্তর্ভুক্ত।
আরও পড়ুন: মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা ব্যবহার করতে পারবেন ভায়াগ্রা! অবাক করবে কারণ
রেলমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন: ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল হাই-স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (NHSRCL)-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে, TBM-এর কার্যক্রম শুরু করার জন্য রেলমন্ত্রী একটি বোতাম টিপবেন। ভিখরোলিতে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫৬.৬ মিটার গভীরে মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। আধিকারিকদের মতে, প্রথম TBM-টি ভিখরোলি থেকে বিকেসি স্টেশনের দিকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার পথ সুড়ঙ্গ খনন শুরু করবে। এদিকে, দ্বিতীয় TBM-টি বর্তমানে সাভলিতে সংযোজন করা হচ্ছে এবং এটি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই মেশিনটি সাভলি থেকে ভিখরোলি পর্যন্ত ৯.৭ কিলোমিটার অংশ খনন করবে। যার মধ্যে ৭ কিলোমিটার জলমগ্ন অংশও রয়েছে। এই ২ টি মেশিনের প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ মিটার সুড়ঙ্গ খনন করার ক্ষমতা রয়েছে।
বুলেট ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলবে: আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মোট দৈর্ঘ্যের মধ্যে বিকেসি থেকে সাভলি পর্যন্ত ১৫.৪ কিলোমিটার অংশ TBM ব্যবহার করে খনন করা হবে। সাভলি থেকে শিলফাটা পর্যন্ত বাকি ৪.৮ কিলোমিটার অংশ ড্রিল-অ্যান্ড-ব্লাস্ট পদ্ধতিতে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্মাণ সম্পন্ন হলে, বুলেট ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। যা শহরের মধ্যে সফরকে আরও অনেক দ্রুত ও সহজ করে তুলবে।













