বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারত এখন বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্য মানচিত্রে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী করার জন্য মনোযোগ দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ভারতীয় উপকূলে এবার একটি নতুন এবং ঐতিহাসিক অধ্যায় লেখা হচ্ছে। যেটি সম্পর্কে জানার পর অবাক হবেন প্রত্যেকেই। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, দেশের শীর্ষস্থানীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানি আদানি পোর্টস (Adani Group) দক্ষিণ ভারতের ভিঝিনজাম বন্দরকে বিশ্বমানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বন্দরের দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণের জন্য কোম্পানিটি ১৬,০০০ কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগের একটি ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত করেছে বলেও জানা গিয়েছে। এদিকে, এই প্রকল্পটি কেবল ভারতের বাণিজ্য সম্ভাবনাই বৃদ্ধি করবে না বরং প্রতিবেশী দেশগুলির, বিশেষ করে চিনের আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনাও বজায় রাখবে।
আদানি গ্রুপের (Adani Group) পরিকল্পনা:
মূলত, ভিঝিনজামকে ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে গড়ে তোলাই আদানি গ্রুপের লক্ষ্যে। জানিয়ে রাখি যে, ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হল এমন একটি স্থান যেখানে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে ছোট জাহাজে পাঠানো হয় অথবা অন্য দেশে পাঠানো হয়। এতদিন ভারতকে এর জন্য কলম্বো বা সিঙ্গাপুরের মতো বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হত। কিন্তু এই সম্প্রসারণের পর সামগ্রিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হলে, এই বন্দরের ধারণক্ষমতা ৪১ লক্ষ টিইইউ (কন্টেইনার ইউনিট) বৃদ্ধি পাবে।

এখন যন্ত্রই দায়িত্ব সামলাবে: জানিয়ে রাখি যে, যে, ইতিমধ্যেই ভিজিনজাম বন্দর তার আধুনিকতার জন্য পরিচিত। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপের সম্প্রসারণের কাজ ওই বন্দরকে প্রযুক্তির নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সূত্র মতে, ওইবন্দরে ২১ টি অত্যাধুনিক অটোমেটিক ক্রেন (STS) এবং ৪৫ টি রেল-মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন (CRMG) মোতায়েন করা হবে। এর মানে হল ভারী কন্টেনার তোলা এবং রাখার কাজ সম্পূর্ণরূপে মেশিনের ওপর নির্ভরশীল হবে। ওই বন্দরে একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা কাজ করবে। যা মানুষের ভুলের সম্ভাবনা কমিয়ে আনবে। এছাড়াও, দ্রুত পণ্য পরিবহণের সুবিধার্থে একটি রেল হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড তৈরি করা হচ্ছে। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে, বন্দর প্রাঙ্গণে বৈদ্যুতিক যানবাহণের জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হবে এবং কেবল পরিবেশ বান্ধব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। যা ওই বন্দরকে ‘গ্রিন পোর্ট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
আরও পড়ুন: T20 বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশগ্রহণ না করলে সুযোগ পাবে কোন দল? মিলল আপডেট
পরিকাঠামোর এক অসাধারণ মডেল: উল্লেখ্য যে, সমুদ্রের মাঝখানে পরিকাঠামো নির্মাণ করা সহজ নয়। তবে দ্বিতীয় ধাপ হবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অসাধারণ কীর্তি। ভারতের গভীরতম ব্রেকওয়াটার এখানেই নির্মিত হবে। ৯২০ মিটার লম্বা এবং ২১ মিটার গভীর এই ব্রেকওয়াটার সমুদ্রের তীব্র ঢেউকে আটকে বন্দরকে নিরাপদ রাখবে। এর মাধ্যমে বড় জাহাজগুলিও সহজেই নোঙর করতে পারবে।
আরও পড়ুন: ৩৬৫ দিনের মেয়াদ, সঙ্গে ৯৪৯ জিবি ডেটা! স্বল্পদামে আকর্ষণীয় রিচার্জ প্ল্যান সামনে আনল BSNL
এদিকে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোনও খামতি রাখা হবে না। ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফেসিলিটি সিকিউরিটির (ISPS) মান অনুসারে ওই বন্দরে একটি দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা পরিধি স্থাপন করা হবে। এছাড়াও, পরিচ্ছন্নতা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যাধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।












