বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মন্দিরে গিয়ে ফুল, বেল পাতা সহ নানা ধরণের অর্ঘ্য দিয়ে পুজো দেন ভক্তরা। তবে দিনের শেষে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলির ঠিকানা হয় নর্দমা অথবা আবর্জনার স্তূপ। তবে এবার সেই ছবি বদলে মন্দিরের বর্জ্য (Waste Management) থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে এমনই ঘোষণা করেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
অভিনব উদ্যোগের ঘোষণা অগ্নিমিত্রার | (Agnimitra Paul)
পরিবেশবান্ধব এই অভিনব উদ্যোগ উত্তরবঙ্গে শুরু হতে চলেছে। এতদিন যে ফুল, বেলপাতা ফেলে দেওয়া হত, সেগুলিই এবার ব্যবসা ও ভক্তির নতুন রূপ পাবে। এগুলি থেকে তৈরি হবে সুগন্ধি ধূপকাঠি ও আবির। এতে পরিবেশরক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন রাস্তা খুলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ মহিলারা পাবেন মাসে ২৫০০ টাকা! নতুন প্রকল্পে আবেদন শুরু, যোগ্যতা জানুন
এই বিষয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মন্দির থেকে সংগ্রহ করা ব্যবহৃত ফুল ও পুজোর উপকরণ আর অপচয় করা হবে না। বিশেষ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সেগুলি দিয়ে সুগন্ধি ধূপকাঠি ও বসন্ত উৎসবের জন্য নিরাপদ ও ভেষজ আবির তৈরি করা হবে।
দুর্গাপুজো থেকে পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে উত্তরবঙ্গের তিনটি মন্দিরে এই উদ্যোগ চালু করা হচ্ছে। কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির, বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের ভ্রমণীদেবী মন্দির ও জল্পেশ শিব মন্দিরে এই প্রকল্প চালু করা হবে। সেখানে সাফল্য পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে উত্তরবঙ্গের আরও নানা মন্দিরকে এই প্রকল্পের অধীন নিয়ে আসা হবে বলে ঠিক করা হয়েছে।

এই বিষয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ সভাপতি গিরেন্দ্রনাথ দেব বলেন, ভক্তরা এসে ফুল, বেলপাতা সহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে মহাদেবের পুজো দেব। দিনের শেষে সেগুলি আমাদের ফেলে দিতে হয়। তবে এগুলি দিয়ে ধূপকাঠি ও আবির বানানো হলে মন্দিরের যেমন অনেকখানি লাভ হবে, তেমনই কর্মসংস্থানের একটি দিশা খুলে যাবে।
অগ্নিমিত্রার এই ঘোষণা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতি দুইয়ের উপরেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একদিকে মন্দির চত্বরের বর্জ্য দূর হয়ে দূষণ কমবে, অন্যদিকে ফুল সংগ্রহ, নিয়ে যাওয়া, প্রক্রিয়াকরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহু মানুষ কর্মসংস্থানের নতুন দিশা পাবেন।













