বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকা (America) ফের শুল্ককে কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পথে এগোচ্ছে। রাশিয়ার (Russia) জ্বালানি রপ্তানিতে লাগাম টানতে এবং ইউক্রেন (Russia-Ukraine War) যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কোর অর্থনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করতে মার্কিন সেনেটে একটি নতুন বিল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, যে দেশগুলি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করবে, তাদের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। হোয়াইট হাউসও এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিলটি মার্কিন সেনেটে পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্য এবং একাধিক দেশের অর্থনীতিতে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
১০০ শতাংশ শুল্কের নয়া বিল আনছে আমেরিকা (America), নিশানায় ভারত-সহ ৫ দেশ:
মার্কিন সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানিয়েছেন, রাশিয়ার জ্বালানি কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করাই এই বিলের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত, চিন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজান, এই পাঁচটি দেশ বর্তমানে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার কারণে নতুন শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারে। বিলে শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিধিনিষেধের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদিও বিশেষ পরিস্থিতিতে বা কৌশলগত কারণে কিছু দেশকে ছাড় দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সেই ছাড় কীভাবে এবং কোন শর্তে দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি (America)।
আরও পড়ুন: একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত, কালীঘাট তৃণমূলকে বিকল্প জায়গা দেখতে বলল হাই কোর্ট
এই প্রস্তাবিত বিলকে ঘিরে ভারতের দিকেও বিশেষ নজর রয়েছে। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ের দামে রাশিয়ার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে ভারত। এর ফলে দেশের জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে কেন্দ্রের তরফে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু মার্কিন সেনেটে এই বিল আইনে পরিণত হলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক এবং জ্বালানি কূটনীতির উপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চিন-সহ অন্যান্য আমদানিকারক দেশগুলোকেও নিজেদের জ্বালানি নীতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই বিলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত বছর একই ধরনের আরও কঠোর একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে, তাদের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো উচিত। যদিও সেই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি। বর্তমান বিলটিকে সেই উদ্যোগের সংশোধিত এবং তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত সংস্করণ বলেই মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য, রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রির আয় কমিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা। এই কারণেই এবার তুলনামূলক কম হারে হলেও কার্যকর শুল্ক আরোপের পথে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।

আরও পড়ুন: পুরীগামী যাত্রীদের স্বস্তি! নবদ্বীপের জন্য ৬ দিনের বিশেষ EMU লোকাল পরিষেবা
মার্কিন সেনেট সূত্রের খবর, নতুন বিলটির পক্ষে ইতিমধ্যেই ২৬ জন সেনেটর সমর্থন জানিয়েছেন এবং আগামী দিনে সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফলে আগস্টের আগেই বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন মার্কিন কংগ্রেসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিলটি আইনে পরিণত হলে শুধু রাশিয়াই নয়, রুশ জ্বালানির উপর নির্ভরশীল বহু দেশকে নতুন বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ককে কেন্দ্র করে আরও এক দফা উত্তেজনার সূচনা ঘটাতে পারে (America)।













