বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের মাঝেই হুগলির পুরশুড়ায় জনসভা করে একাধিক বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। একদিকে তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে আলু চাষিদের জন্য বড় আশ্বাস, দুই দিকেই আক্রমণাত্মক সুর শোনা গেল তাঁর বক্তব্যে। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতেও ফের সরব হয়ে রাজনৈতিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিলেন শাহ।
বাংলার মানুষকে ভয় না পেয়ে ভোট দেওয়ার কথা বললেন অমিত শাহ (Amit Shah)
হুগলির পুরশুড়ার মায়াপুরে নির্বাচনী প্রচারে এসে তৃণমূলকে সরাসরি নিশানা করেন অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি দাবি করেন, বাংলার অনেক মানুষ ভোট দিতে চাইলেও “গুন্ডাদের ভয়ে” পিছিয়ে যাচ্ছেন। আরামবাগ ও পুরশুড়ার বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। একইসঙ্গে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ভোটের দিন কোনও অশান্তি হলে তার জবাব পরে দেওয়া হবে।
এদিন আরামবাগ ও পুরশুড়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করেন শাহ (Amit Shah)। সেখানে আলু চাষিদের সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যের বাইরে আলু পাঠানো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে। আগে যে আলু ২০ টাকায় বিক্রি হত, এখন তা নেমে এসেছে অনেক নিচে।
এই পরিস্থিতিতে বড় প্রতিশ্রুতি দেন শাহ (Amit Shah)। বলেন, বিজেপি সরকার গঠন হলে বাংলার আলু অন্য রাজ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে চাষিরা ভালো দাম পান। পাশাপাশি তিনি জানান, রাজ্যে আলুর বীজ সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, যার ফলে বাইরে থেকে বীজ আনতে হয়। বিজেপি সরকার এলে সেই ব্যবস্থাও তৈরি করা হবে এবং বীজের খরচ কমবে। শুধু তাই নয়, তাঁদের ইস্তাহারে আলু শিল্পের উন্নয়নের কথাও রয়েছে বলে জানান শাহ। তাঁর দাবি, এই জেলা থেকে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত আলুর চিপস তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হবে। এতে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
এদিনের সভায় অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতেও সরব হন তিনি। শাহ (Amit Shah) বলেন, বিজেপি সরকার গড়ে উঠলে রাজ্যে থাকা সমস্ত অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ, এই অনুপ্রবেশকারীরাই স্থানীয় যুবকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।

আরও পড়ুনঃ “এমারজেন্সি জারি করুন!” বাইক ব্যান ঘিরে কমিশনকে কড়া ধমক হাই কোর্টের
তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি (Amit Shah) আরও বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কিছু নাম বাদ পড়ায় শাসকদল আপত্তি তুলছে। তবে বিজেপি সরকার এলে এই পরিস্থিতির বদল ঘটবে বলেই দাবি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ভোটের ফল বেরোনোর পর রাজ্যে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

















