বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যজুড়ে চলছে জনকল্যাণ শিবির। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে মানুষের মনে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পরই টাকা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
মঙ্গলবার কার্শিয়াং সফর শেষে নবান্নে ফিরে জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, জনকল্যাণ শিবিরে আসা কোনও মানুষকে ফেরানো যাবে না। যে কোনও সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র শিবিরে রাখতে হবে, যাতে মানুষ সহজেই আবেদন করতে পারেন। বর্তমানে বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতার নতুন আবেদন নেওয়া বন্ধ থাকলেও, সেই প্রকল্পগুলির আবেদনপত্রও মানুষকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি জানান, এই বিষয়গুলি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
গত ১৫ জুন থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের জনকল্যাণ শিবির। বুধবার তার শেষ দিন। মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন, শিবির সম্পর্কে আরও বেশি প্রচার করতে হবে যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ এর সুবিধা নিতে পারেন।প্রবীণ মানুষদের দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা শিবিরে যেতে পারবেন না, তাঁদের বাড়িতে গিয়েও আবেদনপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সরকারি কর্মীরা ফর্ম পূরণ করতেও সাহায্য করবেন।
এছাড়া তীব্র গরমের মধ্যে শিবিরে আসা মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, জনকল্যাণ শিবির মানুষের সুবিধার জন্য, কোনওভাবেই যেন তা ভোগান্তির কারণ না হয়। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দু’দিনে রাজ্যের প্রায় ২,০৫০টি জনকল্যাণ শিবিরে প্রায় ২৪ লক্ষ মানুষ এসেছেন।

আরও পড়ুনঃ আজই শেষ দিন জনকল্যাণ শিবিরের! ৫৪ সরকারি প্রকল্পে আবেদনের শেষ সুযোগ, কোথায় চলছে ক্যাম্প?
অন্যদিকে অন্নপূর্ণা (Annapurna Yojana) যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৩ লক্ষ মানুষের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। তবে আবেদনপত্র জমা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না। প্রথমে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করা হবে। যাঁরা প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, শিবিরে আসা প্রত্যেক মানুষকে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে, যাতে কোনও বিভ্রান্তি না থাকে।













