বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাড়ির শিশুর হাতে সারাক্ষণ মোবাইল? এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজর রাখবেন আশাকর্মীরা (Asha Workers)। শিশুদের মধ্যে বাড়তে থাকা স্মার্টফোন-নির্ভরতার প্রভাব চিহ্নিত করতে বড় উদ্যোগ নিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে বলে মনে করছে প্রশাসন। তাই এবার নিয়মিত স্বাস্থ্য সমীক্ষার পাশাপাশি শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের তথ্যও সংগ্রহ করবেন আশাকর্মীরা।
শিশুদের মোবাইল আসক্তি নিয়ে সমীক্ষা আশাকর্মীদের (Asha Workers)
এতদিন গর্ভবতী মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যপরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বই ছিল আশাকর্মীদের অন্যতম প্রধান কাজ। এবার সেই দায়িত্বের পরিধি আরও বাড়ছে। শিশুদের অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। সম্প্রতি শহরে আয়োজিত স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব আরাধনা পট্টনায়ক বলেন, গ্রামাঞ্চলেও এখন স্মার্টফোনের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। আরাধনা পট্টনায়ক এই প্রসঙ্গে বলেন, “বাবা-মায়েদের মধ্যে এখন একটি সাধারণ প্রবণতা দেখা যায়। শিশুকে ব্যস্ত রাখার জন্য তার হাতে অল্প বয়সে মোবাইল তুলে দেন।”
ন্যাশনাল হেলথ মিশনের মিশন ডিরেক্টরের বক্তব্য, অনেক অভিভাবকই বুঝতে পারেন না অল্প বয়সে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহারের ফলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে কতটা প্রভাব পড়তে পারে। এর জেরে মনোযোগের ঘাটতি, কথা বলতে দেরি হওয়া, চোখের সমস্যা এবং আচরণগত নানা পরিবর্তনের মতো জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশাকর্মীদের সমীক্ষা পদ্ধতিতে আনা হয়েছে নতুন পরিবর্তন।
এখন থেকে বাড়ি পরিদর্শনের সময় তাঁদের আলাদা করে ‘CBAT’ ফর্ম পূরণ করতে হবে। ওই ফর্মে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়ে একাধিক নতুন প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে। সমীক্ষার সময় আশাকর্মীরা জানতে চাইবেন, একটি শিশু দিনে কতক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করছে, তার আচরণে কোনও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে কি না এবং অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে সে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাথমিক স্তরে স্মার্টফোন-আসক্তির ঝুঁকি চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন : দীর্ঘ ১৫ বছর পর কলকাতার থানায় মহিলা ওসি, বড় সিদ্ধান্ত সরকারের
আরাধনা পট্টনায়ক জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে মোবাইল নির্ভরতার প্রভাব শনাক্ত করতে ইতিমধ্যেই গ্রামাঞ্চলের আশাকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের পুরনো প্রশিক্ষণ মডিউলেও সংশোধন এনেছে, যাতে নতুন দায়িত্ব পালনে তাঁরা আরও দক্ষভাবে কাজ করতে পারেন। ফলে শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোন-নির্ভরতার সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা স্বাস্থ্য দফতরের। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ডিজিটাল আসক্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

















