বাংলা হান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে যথারীতি এবার পকেটে চাপ পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। একদিকে এই যুদ্ধে যেমন গ্যাসের আকাল দেখা দিয়েছে। অপরদিকে দৈনন্দিন জীবনের যাতায়াতের ক্ষেত্রে পকেটে চাপ পড়তে শুরু করেছে মধ্যবিত্তদের। কারণ রান্নার গ্যাসের পর এবার লাগাতার অটোর জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে কার্যত জেরবার হয়েছে অটোচালকেরা (Auto Price Hike)। জানা যায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অটোর গ্যাসের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১৩ টাকা বেড়ে গিয়েছে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে যথারীতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন যাত্রীরা।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা, অটো ভাড়া বাড়ায় নাজেহাল যাত্রীরা (Auto Price Hike)
জানা যায় সোমবার থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে পাঁচ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন অটোচালকেরা (Auto Price Hike)। এই দাম বৃদ্ধির ফলে সপ্তাহের শুরুতে বেশ কিছুটা পকেটে ধাক্কা খেয়েছে শহরের বাসিন্দারা। পাশাপাশি বারংবার এই ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় যথারীতি ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে নিত্যযাত্রীদের মধ্যে। যেখানে গত বুধবার পর্যন্ত অটোর গ্যাসের দাম ছিল লিটার প্রতি ৬২ টাকা ৬৮ পয়সা। সেটি শুক্রবার বেড়ে দাঁড়ায় ৭০টাকা ৬৮ পয়সা। এর আগের এক সপ্তাহখানেই এক দফার ৫ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। অর্থাৎ এই অল্প সময়ের মধ্যে জ্বালানি খরচ ১৩ টাকা বেড়ে গিয়েছে। এই অস্বাভাবিক অটোর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে উল্টোডাঙ্গা- সল্টলেক সেক্টর ফাইভ রুটে।

আরও পড়ুন: যাত্রীদের জন্য জরুরি খবর, ২৩ মে পর্যন্ত ট্রেনের রুট-টাইমে পরিবর্তন—দেখুন নতুন সময়সূচি
এছাড়াও এই বিষয়ে উল্টোডাঙ্গা স্টেশন সংলগ্ন অটো স্ট্যান্ড এর দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিধান নগর থেকে সেক্টর ফাইভ যেতে এখন গুনতে হবে ৪০ টাকা। অপরদিকে ১২ নম্বর ট্যাঙ্ক বা সুশ্রুত হাসপাতাল পর্যন্ত ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা, যা আগে ছিল ২৫ টাকা। তবে সেই বিজ্ঞপ্তিতে এটিও জানানো হয়েছে, গ্যাসের দাম কমে গেলে পুনরায় ভাড়া কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তাছাড়াও উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই চিত্রটা প্রায় এক। ফুলবাগান থেকে গিরিশপার্ক বা মানিকতলা রুটে ভাড়া বেড়েছে ২-৩ টাকা। সিঁথির মোড় থেকে দমদম স্টেশন পর্যন্ত অটো রুটের ভাড়াও ১০ থেকে বেড়ে হয়ে গিয়েছে ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। আবার, দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক-গড়িয়া, টালিগঞ্জ-যাদবপুর, রানীকুঠি-বাঘাযতীন বা পার্ক সার্কাস-ধর্মতলা, জোকা–তারাতলা, টালিগঞ্জ ফাঁড়ি–ঠাকুরপুকুর রুটে ইউনিয়নগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া না বাড়ালেও, বহু চালক ৫-১০ টাকা বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ।
এই বিষয়ে অটো ইউনিয়নগুলির দাবি, লোকসান সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে পরিবহণ দফতর অবশ্য এই পুরো বিষয়টিতে কিছুটা অসহায়। পরিবহন দফতরের এক অধিকর্তা জানান ‘অটো ভাড়া নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি আইনি পরিকাঠামো নেই। ফলে ইউনিয়নগুলি নিজেদের মতো ভাড়া ঠিক করে। তবে আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি (Auto Price Hike)।












