ইউনূস জমানায় পাক-বাংলাদেশ সম্পর্কে গতি, ১৪ বছর পর চালু সরাসরি ঢাকা-করাচি ফ্লাইট

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় পাকিস্তানের (Bangladesh-Pakistan) সঙ্গে কূটনৈতিক ও যোগাযোগগত ঘনিষ্ঠতা নতুন গতি পাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ১৪ বছর পরে ফের চালু হলো ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান পরিষেবা। বৃহস্পতিবার এই ঐতিহাসিক উড়ানকে ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখা যায় দুই দেশেই। ২০১২ সালের পরে এই প্রথমবার দুই শহরের মধ্যে কোনও সরাসরি যাত্রীবাহী বিমান চলাচল শুরু হলো, যা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মানচিত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

১৪ বছর পর চালু বাংলাদেশ-পাকিস্তান (Bangladesh-Pakistan) সরাসরি ফ্লাইট

বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে করাচির উদ্দেশে রওনা দেয় প্রথম ফ্লাইট BG-341। উড়ানের আগেই সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে যায়, যা যাত্রীদের আগ্রহেরই প্রতিফলন। প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে রাত ১১টা নাগাদ বিমানটি করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে পাকিস্তান এয়ারপোর্ট অথরিটির তরফে ‘ওয়াটার স্যালুট’-এর মাধ্যমে বিমানটিকে স্বাগত জানানো হয়। পাকিস্তান এয়ারপোর্ট অথরিটি এক বিবৃতিতে এই পরিষেবাকে দুই দেশের বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে উল্লেখ করেছে।

আরও পড়ুন: আরও ৪ জনের দেহাংশ উদ্ধার, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে কোথায় গিয়ে ঠেকবে মৃতের সংখ্যা?

এতদিন ঢাকা থেকে পাকিস্তানে যেতে হলে যাত্রীদের দুবাই কিংবা দোহা হয়ে যাত্রা করতে হতো। এতে সময় ও খরচ—দু’টিই বেড়ে যেত। একই সমস্যার মুখে পড়তেন পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীরাও। সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হওয়ায় সেই জট কাটল বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাত্রী চলাচলের পাশাপাশি বাণিজ্যিক যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানেও এই উড়ানের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ঢাকা-করাচি রুটে আপাতত সপ্তাহে দু’দিন বিমান চালাবে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস’। ঢাকা থেকে করাচি পৌঁছতে সময় লাগছে প্রায় তিন ঘণ্টা, আর করাচি থেকে ঢাকায় ফিরতে সময় লাগছে চার ঘণ্টা কুড়ি মিনিট। এই পরিষেবা বর্তমানে পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয়েছে এবং আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। সব দিক সন্তোষজনক হলে এই পরিষেবাকে স্থায়ী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্য রুটেও বিমান চালুর কথা ভাবছে সংস্থাটি।

Bangladesh-Pakistan direct flights restarted after 14 years.

আরও পড়ুন: নরমাল আলুভাজা খেয়ে মুখে চর পড়েছে? নতুন টুইস্টে বানান দক্ষিণী স্টাইলের আলুভাজা

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকেই বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। যুদ্ধাপরাধের বিচার ও পাকিস্তানপন্থী জামায়াত নেতাদের ফাঁসির ঘটনায় কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকে। তার জেরেই ধাপে ধাপে কমে যায় বিমান যোগাযোগ এবং শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালে তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। গত বছরের অগস্টে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় থেকেই সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর আলোচনা গতি পায়। গত মাসে পাকিস্তানের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার সেই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেল।