বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলার এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি চর্চায় থাকা কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম ভবানীপুর (Bhabanipur)। কারণ এই কেন্দ্রেই মুখোমুখি হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের আগে থেকেই এই কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভবানীপুরের ফলাফল শুধু একটি আসনের হিসাব নয়, বরং তা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক ছবির উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই কেন্দ্রের দিকে নজর রয়েছে গোটা বাংলার।
ভবানীপুর (Bhabanipur) ভোট ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক চর্চা
২০২১ সালের নন্দীগ্রামের পর আবারও সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। সেই কারণেই ভবানীপুরকে (Bhabanipur) ঘিরে আগ্রহ আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের ফলাফল রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পর্কে বড় ইঙ্গিত দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে আসন পুনর্বিন্যাসের পর ভবানীপুর (Bhabanipur) কেন্দ্র তৈরি হয়। দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে পরিচিত। এখানে পুরনো বাঙালি পরিবারের পাশাপাশি গুজরাতি, মারোয়ারি, শিখ-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। ফলে এই কেন্দ্রের ভোটের সমীকরণও বেশ জটিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
স্থানীয় স্তরের বিভিন্ন আলোচনা এবং পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, এলাকার একাংশ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবেই দেখেন। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও বস্তি এলাকার কিছু মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি সমর্থনের কথা শোনা যাচ্ছে। আবার অন্যদিকে, শহুরে ও অ-বাঙালি ভোটারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষের কথাও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ভবানীপুরের (Bhabanipur) লড়াইকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সংগঠন ও প্রভাব, অন্যদিকে বিজেপির জোরালো প্রচার, দুইয়ের টানাপোড়েনে কেন্দ্রটি এখন রাজ্যের অন্যতম হাইভোল্টেজ আসনে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “পশ্চিমবঙ্গের নারী ও যুবশক্তি…” ভোটের সকালেই বাংলার মহিলা ও তরুণ ভোটারদের জন্য বড় বার্তা মোদীর
এখন সকলের নজর ফলাফলের দিকেই। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের (Bhabanipur) ভোট কোন দিকে যায়, সেটাই আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে বড় বার্তা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।












