‘মিষ্টি মুখে’ বাংলার ব্র্যান্ডিং!ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছাতে বিজেপির নতুন উদ্যোগ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলায় বিজেপির (Bharatiya Janata Party) আগমনের পর রাজনীতিতে এবার নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। শিল্প, বিনিয়োগ এবং জমি নীতির পাশাপাশি বাংলার খাদ্য-ঐতিহ্যকে সামনে রেখে নতুন সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য বিজেপি। দলের লক্ষ্য, বাংলার এমন একাধিক জনপ্রিয় মিষ্টিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে তোলা, যেগুলি এখনও জিআই বা জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন স্বীকৃতি পায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উদ্যোগ শুধু সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার প্রচেষ্টা নয়, বরং বাংলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাদ্যশিল্পকে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার একটি কৌশলও বটে।

ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছাতে বিজেপির (Bharatiya Janata Party) নতুন উদ্যোগ

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। কোন কোন মিষ্টির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য এবং বাজার সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে গবেষণা করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে জিআই ট্যাগের জন্য আবেদন জানানো হবে। সূত্রের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের পথও খোলা রাখা হচ্ছে। কারণ জিআই ট্যাগের আবেদন ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারি ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে স্থানীয় মিষ্টি শিল্পের প্রতিনিধিদেরও এই উদ্যোগে যুক্ত করা হবে (Bharatiya Janata Party)।

আরও পড়ুন:অধিনায়ক হিসেবে একইদিনে ধোনি ও সৌরভকে টপকে গেলেন শুভমান গিল! গড়লেন দুর্দান্ত রেকর্ড

শুক্রবার দিল্লিতে এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বাংলার পরিচিতি বহুলাংশে তার মিষ্টি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, এমন বহু মিষ্টি রয়েছে যেগুলির জনপ্রিয়তা রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়া উচিত। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে মালদার বিখ্যাত কানসাট এবং কোচবিহারের মোহনভোগকে ঘিরে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হুগলির কামারপুকুরের সাদা বোঁদে এবং নদিয়ার নবদ্বীপের লাল দইও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। বিজেপির দাবি, এই মিষ্টিগুলি শুধু খাদ্যপণ্য নয়, বরং বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে বিজেপির পরিকল্পনা শুধুমাত্র জিআই স্বীকৃতি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দলের ভাবনায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে ‘মিষ্টি হাব’ গড়ে তোলা। এই হাবগুলির মাধ্যমে উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন এবং রপ্তানির জন্য আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথা ভাবা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, জিআই ট্যাগ কোনও পণ্যের ঐতিহ্যগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে, কিন্তু তার বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী বাজার ব্যবস্থা। সেই লক্ষ্যেই মিষ্টি শিল্পকে সংগঠিত রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় কারিগর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মিষ্টি প্রস্তুতকারকরাও সরাসরি উপকৃত হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Bharatiya Janata Party initiated to give GI Tag to Bengal's traditional sweets

আরও পড়ুন:ফিরহাদ জমানায় ইতি! পুরবোর্ড টিকলে কলকাতার নতুন মেয়র কে? বৈঠক ডাকলেন মমতা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘বাঙালি সত্ত্বা’ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশ্নকে আরও গুরুত্ব দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি। একদিকে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের বার্তা, অন্যদিকে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্যকে সামনে আনার কৌশল—দুই দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির (Bharatiya Janata Party)। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হবে। পাশাপাশি বড় মিষ্টি ব্যবসায়ী, খাদ্য গবেষক এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। লক্ষ্য একটাই—বাংলার মিষ্টিকে শুধু রাজ্যের গর্ব হিসেবেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।