বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাঁকুড়ার শালতোড়ার এক সাধারণ গ্রামের বাড়িতে থাকেন চন্দনা বাউরি (Chandana Bauri)। অন্ধকার থাকতেই বাড়ির কাজ শুরু করে দেন। যেমন তিনি পরিবারের দেখভাল করেন তেমনি তার মাথায় আছে গুরু দায়িত্ব। তিনি বিজেপি বিধায়ক। রাজনৈতিক পরিচয় যতই বড় হোক, তাঁর জীবন এখনও একেবারে সাধারণ মানুষের মতোই। দ্বিতীয়বার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরও জীবনযাত্রায় কোনও চাকচিক্য আসেনি চন্দনার। এখনও তিনি গ্রামের সেই পরিচিত মুখ, যিনি একসময় সংসারের প্রয়োজনে স্বামী শ্রাবণ বাউরির সঙ্গে নির্মাণ শ্রমিকের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।
চন্দনা বাউরির (Chandana Bauri) জীবনযাত্রা
বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির কেলাই গ্রামের দরিদ্র পরিবারে বড় হয়েছেন চন্দনা। ছোট থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে বড় হতে হয়েছে তাঁকে। স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন, আর সংসারের খরচ সামলাতে তাঁর সঙ্গেই বিভিন্ন কাজে হাত লাগাতেন চন্দনা। রাজনৈতিক পরিবেশে বড় না হলেও চারপাশে ঘটে চলা অত্যাচার, সাধারণ মানুষের অসহায়তা তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল। সেই অনুভূতি থেকেই ধীরে ধীরে রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। পরে বিজেপির সংগঠনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শালতোড়া কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপি। সেই সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, রাজনৈতিক প্রভাব বা অর্থনৈতিক শক্তি ছাড়া একজন সাধারণ গৃহবধূর পক্ষে ভোটে লড়াই করা কঠিন হবে। কিন্তু সমস্ত সমালোচনাকে পিছনে ফেলে জয় ছিনিয়ে আনেন চন্দনা। এরপর ২০২৬ সালের নির্বাচনেও দল তাঁর উপর ভরসা রাখে। আর সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে আরও বড় ব্যবধানে ফের বিধায়ক হন তিনি।
তবে জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরেও তাঁর জীবন বদলায়নি খুব একটা। এখনও নিজের হাতে সংসারের সমস্ত কাজ সামলান। গ্রামের মানুষও আগের মতোই নির্দ্বিধায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। এমনকি বিধায়ক হওয়ার পরেও নিজেদের বাড়ি তৈরি করার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁদের। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘরটিও স্বামী-স্ত্রী মিলে নিজেরাই তৈরি করেছেন। চন্দনা বাউরীর কথায়, “আমি যখন রাজনীতিতে আসি, তখন তৃণমূলের অত্যাচার দেখে সিদ্ধান্ত নিই যে আমায় লড়তে হবে। আমায় দেখে যেন আরও মহিলারা সাহস পান।”

আরও পড়ুন : কত টাকা মেলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায়? কারা করতে পারবেন আবেদন?
বর্তমানে শালতোড়ার উন্নয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দামোদরের উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ, প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া পাথর শিল্পকে ফের সচল করার বিষয়ে জোর দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, যাতে কাজের খোঁজে আর অন্য রাজ্যে যেতে না হয় মানুষকে।
সংগ্রামের পথ এখনও শেষ হয়নি, তা জানেন চন্দনা বাউরি। কিন্তু সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই লড়াকু নারী আজও বিশ্বাস করেন, মানুষের আস্থা ও সমর্থন থাকলে কোনও বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়।













