বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আজ ২০২৬-২০২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ। সকাল ১১ টা থেকে শুরু হয়েছে বাজেট (Budget 2026) পেশ করার অনুষ্ঠান। এদিন লোকসভা থেকে একের পর এক বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। স্বাস্থ্যক্ষেত্র, মেডিক্যাল ট্যুরিজম, ব্যাঙ্কিং সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন পরিকল্পনার কথা উঠে আসছে এবারের বাজেটে। দেশের বাজেটে কি কি পরিবর্তন আনা হচ্ছে সমস্ত কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হল।
বাজেটে (Budget 2026) মন্ত্রিসভার অনুমোদন
বাজেট (Budget 2026) পেশের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায় ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট। এরপর রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট পেশের আগে শুভেচ্ছাস্বরূপ তাঁকে দই-চিনি খাওয়ান রাষ্ট্রপতি।এরপর সকাল ১১টা নাগাদ লোকসভায় বাজেট ভাষণ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী।
বক্তৃতার শুরুতেই তিনি জানান, এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য কৃষক, তফশিলি সম্প্রদায়, দরিদ্র মানুষ এবং মহিলাদের উন্নয়ন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আত্মনির্ভর ভারত গড়াই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের আয় বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। জিএসটি, লেবার কোড সহ একাধিক বড় সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রযুক্তি ও গবেষণায় বিশেষ ঘোষণা
বাজেটে গবেষণা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। প্রত্যেকটি ঘোষণা নিম্নে উল্লেখ করা হল-
- বায়ো-ফার্মা গবেষণার জন্য তিনটি নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে।
- দেশে এক হাজারের বেশি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সাইট গড়ে তোলা হবে।
- সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে বিশেষ জোর দিয়ে নতুন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়া হবে।
- এই খাতে মোট ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কেরলে তৈরি হবে “রেয়ার আর্থ করিডর”।
- আয়ুর্বেদিক ওষুধ উৎপাদনে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।
তিন মূল লক্ষ্য ঘোষণা
অর্থমন্ত্রী বাজেটে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। সেগুলি হল –
- কাঠামোগত সংস্কারের গতি বজায় রাখা
- শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহ আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
বস্ত্রশিল্পে বড় উদ্যোগ
বস্ত্র ও শিল্পক্ষেত্রেও এদিন বড় ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। সেগুলি হল-
- নির্মাণ সামগ্রী ও মেট্রো টানেল তৈরির যন্ত্রপাতির জন্য নতুন স্কিম চালু হবে।
- কন্টেনার উৎপাদনে পাঁচ বছরের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ।
- সিল্ক, উল ও জুট শিল্পের উন্নয়নে ন্যাশনাল ফাইবার স্কিম আনা হবে।
- খাদি ও হ্যান্ডলুম শিল্পীদের সাহায্যে বিশেষ প্রকল্প চালু করা হবে।
- মেগা টেক্সটাইল পার্ক তৈরি এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইলে জোর দেওয়া হবে।
- খেলাধুলার সামগ্রী উৎপাদনের জন্য নতুন হাব গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিবহণ ও যোগাযোগে নজর
পরিকাঠামো উন্নয়নে বাজেটে (Budget 2026) বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল –
- দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো হবে।
- ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরির প্রস্তাব।
- ওড়িশার তালচের, কলিঙ্গনগর ও পারাদ্বীপ জলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ।
- জলপথে কাজের জন্য নতুন ট্রেনিং সেন্টার তৈরি করা হবে।
- রেল, সড়ক ও জলপথ, তিন মাধ্যমেই বাণিজ্য বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- টিয়ার–২, টিয়ার–৩ শহর এবং মন্দির শহরগুলির উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ব্যাঙ্কিং ও বিনিয়োগে সংস্কার
ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রেও এদিন একাধিক বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। ঘোষণাগুলি হল –
- ব্যাঙ্কিং সেক্টরের উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে।
- গ্রাহক পরিষেবা এবং আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হবে।
- প্রবাসী ভারতীয়রা এবার থেকে ভারতীয় লিস্টেড সংস্থায় বিনিয়োগ করতে পারবেন।
- কৃষি থেকে শিল্প, সব ক্ষেত্রেই AI প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঘোষণা
২০২৬ সালের বাজেটে সবচেয়ে বড় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। অর্থমন্ত্রী জানান –
- স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
- রেডিওলজি, অ্যানাস্থেশিয়া, অপ্টোমেট্রি, ওটি টেকনোলজিতে দক্ষ কর্মী তৈরিতে জোর দেওয়া হবে।
- দেশে প্রায় দেড় লক্ষ মাল্টিস্কিল কেয়ার গিভার তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- ওয়েলনেস ও যোগা পরিষেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
- মেডিক্যাল ট্যুরিজম বাড়াতে পিপিপি মডেলে পাঁচটি মেডিক্যাল হাব তৈরি করা হবে।
- এই হাবগুলিতে চিকিৎসার পাশাপাশি পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ থাকবে।
- আয়ুষ সেন্টার, পোস্ট কেয়ার ইউনিট ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তৈরি হবে।
- আয়ুর্বেদিক পণ্য রফতানি বাড়লে কৃষকরাও লাভবান হবেন।
- দেশে তিনটি জাতীয় মানের আয়ুর্বেদিক ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে।
- আয়ুষ ফার্মাসি ও ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবগুলিকে আধুনিক করা হবে।
- ভেটেনারি ও প্যারা ভেটেনারি কলেজ এবং হাসপাতালের জন্য বিশেষ সাবসিডি স্কিম চালু হবে।

আরও পড়ুনঃ এবার উত্তরবঙ্গে রেলের বড় চমক, কোন কোন এলাকায় আসছে নতুন লাইন? জানুন
এবারের বাজেট (Budget 2026) স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আগামী দিনে স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো ও বিনিয়োগ, এই চারটি ক্ষেত্রই ভারতের উন্নয়নের মূল স্তম্ভ হতে চলেছে। মেডিক্যাল ট্যুরিজম হাব গঠন থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ—সব দিকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট।
















