বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর আবহে বইয়ের স্টল ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত, আর সেই বিতর্ক এবার পৌঁছে গেল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। বনগাঁ থেকে নৈহাটি—দুর্গাপুজোর সময় দলীয় বইয়ের স্টল বসানোকে কেন্দ্র করে সিপিএমের সঙ্গে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের অনুমতি না মেলায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বাম দল।
সিপিএমের বুক স্টল নিয়ে কি বলল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)?
পুজোর দিনগুলিতে যশোর রোডের পাশে বইয়ের স্টল বসানো সিপিএমের দীর্ঘদিনের উদ্যোগ বলে দাবি দলের স্থানীয় নেতৃত্বের। এ বারও সেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। স্টল তৈরির জন্য বাঁশ ও কাঠ জোগাড় করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সিপিএম। কিন্তু অভিযোগ, সেই সামগ্রী সরিয়ে দিয়ে সেখানে নিজেদের স্টল তৈরির উদ্যোগ নেয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বাম কর্মীরা আক্রান্ত হন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার কয়েকটি ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়।
শুধু বনগাঁ নয়, নৈহাটিতেও পুজোর স্টল বসানো নিয়ে অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন দলের প্রতিনিধিরা। দ্রুত শুনানির আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা ওঠে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। তবে মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শোনার ক্ষেত্রে বিশেষ আগ্রহ দেখাননি বিচারপতি।
সিপিএমের আইনজীবী তখন বলেন, “দয়া করে মামলা ছেড়ে দিন, আমরা অন্য এজলাসে চেষ্টা করব। পুজোর পর মামলার আর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।” এর উত্তরে বিচারপতি জানান, “আগামীকাল মামলা ছেড়ে দেওয়া হবে”।
এদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডেও পুজোর স্টলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সিপিএমের দাবি, পুজোর স্টল বসানো আটকাতে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে বাম কর্মীদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। যদিও এই ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বিজেপিও। ফলে পুজোর স্টল ঘিরে দুই দলের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন : ‘ইগনোর করে এগিয়ে যান’! অগ্নিমিত্রাকে বড় পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর, প্রশংসায় ভরালেন শর্বরীকেও
এই আবহেই দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দুর্গাপুজো বলেন না, শারদোৎসব ! আমি সব দুর্গাপূজা কমিটিকে বলব, এই তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজোর স্টল করতে গেলে শারদোৎসবের জায়গায় যদি দুর্গাপুজো না লেখে, একটা স্টলও করতে দেবেন না।’ পুজোর স্টল বসানো নিয়ে অনুমতি, রাজনৈতিক বাধা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। উৎসবের মরশুমে বইয়ের স্টল ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।














