বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ১৬ বছরের টালবাহানার অবসান। নিয়ম মেনে কাজ করলেও মাস গেলে ঠিকঠাক বেতন (Salary Arrear) পেতেন না, এক ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা করেছিলেন ১৭২ জন ঠিকাকর্মী। অভিযোগ ছিল, টানা আট বছর কাজ করার পরও কোনও টাকাই পাননি তারা। এবার সেই সংক্রান্ত মামলায় বিরাট নির্দেশ রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের।
ঠিক কী বিষয়ে মামলা?
রেল স্টেশনে খাবার বিক্রির জন্য রেল একটি ঠিকাদার সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়। সেই সংস্থা খাবার তৈরি ও বিক্রির জন্য ২০০১ সালে মোট ১৭২ জন কর্মীকে নিয়োগ করে। সেই থেকে টানা আট বছর ওই ঠিকাদার সংস্থার হয়ে স্টেশনে চা, পুরি-আনাজ, আলুর দম অন্যান্য খাবার বিক্রি করতেন তাঁরা। নিয়ম ছিল, বিক্রিবাট্টা শেষ হলে রেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে হিসাব বুঝিয়ে সব টাকা দিয়ে দেওয়া হবে।
সেই কর্মীদেরই অভিযোগ, প্রতি মাসে তাঁদের চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা করে মাইনে দেওয়ার কথা বলে কাজে ঢোকানো হয়েছিল। তবে তাঁরা নিয়ম মেনে কাজ করলেও মাসের শেষে বেতন দেওয়া হতো না। বহু কাঠখড় পোড়ালেও মেলেনি ন্যায্য বেতন। এই নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকলেও তাঁরা কাজ বন্ধ করেননি।
কারণ কী?
কর্মীরা জানান যেহেতু তাঁদের কাছে আর দ্বিতীয় কোনো রাস্তা খোলা ছিল না তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা সেখানেই থেকে যান। তবে ঘুরপথে কিছুটা আয় করে নিতেন। ট্রলিতে পুরি বিক্রি করা এক কর্মী জানান, ‘আমাদের যে পরিমাণ কাঁচামাল দেওয়া হতো, তা দিয়ে আমরা কখনও বেশি, কখনও কম খাবার বানাতাম। কাঁচামালে ৫০টি পুরি বানানোর কথা থাকলেও সমপরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে ৬৫টি বানাতাম। রুটিও পাতলা পাতলা করা হত।
১০০ মিলিলিটার চা দেওয়ার কথা থাকলে সেখানে ৭০ মিলিলিটার দেওয়া হত। এভাবেই বাকিটা মুনাফা তাঁরা নিতেন। মাইনে না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা খরিদ্দারদের ঠকাতেন। ২০০৯ পর্যন্ত একইভাবে চলে সবটা।’ এরপর বেতনের দাবি তোলেন ওই ঠিকাকর্মীরা। রেলের দ্বারস্থ হন। একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন হলেও সুরাহা হয়নি। শেষমেষ আদালতে গড়ায় জল। ছ’বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা।

সপ্তমবারে মিলল জয়
সাত বারের বার হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্তের এজলাসে মামলা ওঠে। সেখানেই হল সুরাহা। বিচারপতির নির্দেশ, ২০০১–এর এপ্রিল থেকে ২০০৯–এর জুলাই পর্যন্ত প্রত্যেক কর্মীকে মাসিক চার হাজার টাকা করে মাইনে দিতে হবে ওই সংস্থাকে। ৩০ দিনের মধ্যে সুদ-সহ সেই মাইনে মেটানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন: ‘এই সরকার ক্ষমতাচ্যুত..,’ DA মামলার রায়দান নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকায় ক্ষোভ উগরে দিলেন মলয়বাবু
উল্লেখ্য, সবমিলিয়ে ১৭২ জনের মোট মাসিক মাইনে দাঁড়ায় প্রায় ৬ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা। ১০০ মাসের বেতন হচ্ছে প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। এরপর যুক্ত হবে সুদ। গোটা টাকা মেটাতে হবে ওই ঠিকাদার সংস্থাকে। আদালতের নির্দেশে ১৬ বছর পর অবশেষে বকেয়া টাকা পেতে চলেছেন কর্মীরা। খুশিতে ভাসছে খড়্গপুর শহর।













