বাংলাহান্ট ডেস্ক: সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যে চর্চা তুঙ্গে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বকেয়া মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে। বকেয়ার অংশ পেতে শুরু করেছেন সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তরা। এই আবহেই এবার মুখে হাসি ফুটতে চলেছে রায়গঞ্জ পুরসভার ঠিকাদাররা। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে বকেয়া পেতে চলেছেন তারা।
হাইকোর্টের নির্দেশে কাটল জট | Calcutta High Court
অভিযোগ ছিল, কাজ ঠিকঠাক শেষ করলেও বকেয়া টাকা দেয়নি তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ পুরসভার ঘটনা। সেখানে ২০১৫ সালের টেন্ডারে কাজ পেয়েছিলেন ২০০ জন ঠিকাদার। ২০১৫ সালের কংগ্রেস পরিচালিত রায়গঞ্জ পুরসভার তৎকালীন পুরপ্রধানের নির্দেশে টেন্ডার ইস্যু করে ২৭১টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। পরের বছরের মধ্যে ৯ কোটি টাকার কাজ শেষ করেছিলেন ২০০ জন ঠিকাদার।
এদিকে ২০১৭ সালের পুর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর পুরসভার প্রশাসক পদে বসেন এসডিও। সেখান থেকেই সমস্যার শুরু। অভিযোগ, তৃণমূলের মদতেই তৎকালীন পুর প্রধানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক অনুমোদন ছাড়াই কাজের অভিযোগ করেন তিনি। রোষের কবলে পড়েন ওই ঠিকাদাররাও। পরবর্তীতে তৃণমূল ক্ষমতায় এলে তাঁদের টাকা আটকে দেয় তৃণমূল পরিচালতে বোর্ড। অভিযোগ, পরে এই নিয়ে কমিটি গঠন করে ঠিকাদারদের কাজ নিয়ে ক্লিনচিট দেওয়ার পরও ফিট সার্টিফিকেট পেলেও তাঁদের টাকা দেয়নি তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড।
বকেয়া টাকা না মেলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই ঠিকাদাররা। প্রথমে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ রাজ্যকে টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের বিরোধিতা করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় পুরসভা। ডিভিশন বেঞ্চ পুরসভার আবেদন খারিজ করে দু’মাসের মধ্যে টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তাতেও কাটেনি জট।

অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পর একজন ঠিকাদার ৭৯ লক্ষ টাকা পেলেও বাকিরা পাননি। ফের আদালতের দ্বারস্থ হন ঠিকাদাররা। আদালতে আবেদনকারীদের আইনজীবী জানান, ‘ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী সকলেই টাকা পাওয়ার যোগ্য। তাও এতদিন ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা আটকে রাখা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম রিজেক্ট হলে ফের আবেদন করা যাবে? গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন মন্ত্রী
বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী পর্যবেক্ষণে জানান, ‘কমিটি ক্লিনচিট দিয়েছে। টেন্ডার অনুযায়ী কাজ হয়েছে। একযাত্রায় পৃথক ফল হতে পারে না।’ এরপরই বিচারপতি রাজাবসু চৌধুরী, অবিলম্বে মামলাকারী ঠিকাদারদের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাকীর ঠিকাদারদের মোট ৬০ লক্ষ বকেয়া টাকা অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের। আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্বস্তিতে ঠিকাদাররা।













