বাংলা হান্ট ডেস্ক : আইনজীবীদের পেশাগত কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শুধুমাত্র আইন পেশা পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোনও পার্টনারশিপ ফার্ম গঠন করা হলে তার নিবন্ধনের জন্য ট্রেড লাইসেন্স আবশ্যক নয়। এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটতে পারে বলে মনে করছেন আইন মহলের একাংশ।
ট্রেড লাইসেন্স সম্পর্কিত হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশ
জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে একটি মামলার শুনানির সময় বিচারপতি বিভাস পট্টনায়ক বলেন, “ইন্ডিয়ান পার্টনারশিপ ফার্ম আইনে ফার্মের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। এই আইনে কোথাও বলা নেই যে, শুধু আইনি পেশা পরিচালনার জন্য গঠিত কোনও পার্টনারশিপ ফার্মের রেজিস্ট্রেশনের আগে ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে হবে।” আদালতের এই পর্যবেক্ষণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতদিন বহু আইনজীবী ফার্ম নিবন্ধনের জন্য পুরসভার কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হত।
শুধু লাইসেন্স সংগ্রহ করাই নয়, নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা নবীকরণ করার প্রয়োজনও থাকত। নতুন রায়ের ফলে সেই অতিরিক্ত প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা আর থাকছে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এই মামলার আবেদনকারী ছিলেন জলপাইগুড়ির আইনজীবী অর্জুন চৌধুরী। তিনি আদালতে জানান, নিজের পার্টনারশিপ ফার্মের নথিভুক্তির জন্য আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে ট্রেড লাইসেন্স জমা দেওয়ার দাবি জানায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, শুধুমাত্র ওই নথি না থাকার কারণ দেখিয়ে রেজিস্ট্রার অফ ফার্মস, সোসাইটি ও নন-ট্রেডিং কর্পোরেশন একাধিকবার তাঁর আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, আইনে নির্ধারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা পড়লে রেজিস্ট্রারের পক্ষে আবেদন নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর পার্টনারশিপ রুলস অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্সের মতো নথি চাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন : পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে বড় ঘোষণা, সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর দিল কেন্দ্র
তবে শুনানির সময় আদালত লক্ষ করে যে, আইনি পেশার জন্য গঠিত কোনও পার্টনারশিপ ফার্মের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক—এমন কোনও নির্দিষ্ট বিধান রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেখানো সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, প্রশাসনিক স্তরে জারি করা কোনও নির্দেশ মূল আইনের পরিধি ছাড়িয়ে যেতে পারে না এবং আইন যা বলেনি, তা অতিরিক্ত শর্ত হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া যায় না।













