বাংলা হান্ট ডেস্ক: দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানান্তরিত হবে কলকাতা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে থাকা মসজিদের অবস্থান (Kolkata Airport Mosque Controversy)। এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘দেশের নিরাপত্তা সবার আগে’!
কলকাতা বিমানবন্দরের মধ্যে থাকা বাঁকড়া মসজিদে বন্ধ নামাজ পড়া
প্রসঙ্গত শনিবার থেকেই সাময়িকভাবে নামাজ পড়া বন্ধ হয়েছে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে থাকা দীর্ঘ দিনের পুরনো বাঁকড়া মসজিদে। এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, ‘জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করব না। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকেও কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন এবং বাংলাদেশ উভয়ই খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তাই এইভাবে বহিরাগতদের জন্য দরজা খোলা রাখা যায় না।’
কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
বিরোধী শিবিরকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেছেন, ‘কাউকে তার ধর্ম পালন করতে আমরা বাধা দিইনি।’ ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বিরোধীরা বলেছিল পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুসলমানদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে এমনকী তাদের নামাজ পড়তে দেওয়া হবে না। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, তারা পশুবলি সংক্রান্ত আইন মেনে চলেছে, তাই কোনও সমস্যা হয়নি। মহরমের সময় তারা বাড়িতে অস্ত্র রেখে বাইরে বেরিয়েছিল, এতেও কোনো সমস্যা হয়নি। ভদ্র আচরণ করুন, আইন মেনে চলুন এবং নিজের ধর্ম পালন করুন। সবকিছু ঠিকঠাকই থাকবে, সুন্দরভাবেই চলবে।’
আরও পড়ুনঃ জলযাত্রীদের উপর পুষ্পবৃষ্টি থেকে মন্দির সংরক্ষণে ১০০ কোটি, ফের একাধিক বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রসঙ্গত কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের একেবারে কাছেই অবস্থিত এই গৌরীপুর জামা মসজিদটি ১৩৬ বছরের পুরোনো। যা ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। এই মসজিদ নিয়ে বিতর্ক আজকের নয়। আগেও বহুবার প্রশ্ন উঠেছে মসজিদের অবস্থান নিয়ে। কিন্তু প্রাক্তন সরকারের অসহযোগিতার কারণে একাধিকবার এই মসজিদ স্থানান্তরিত করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
তবে এই শনিবার থেকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দরগার সংস্কার করার জন্য সাময়িক ভাবে মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করে দেয়। তারপর থেকেই এই মসজিদ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। যদিও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা সুরক্ষিত রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীও মোতায়েন করা হয়েছে।













