বাংলা হান্ট ডেস্ক : জামাইষষ্ঠীর বাজারে ইলিশের চাহিদা বাড়লেও জ্বালানির অভাবে বড় সমস্যায় পড়েছিলেন উপকূলের মৎস্যজীবীরা। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার প্রস্তুতি থাকলেও প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় বহু ট্রলার কার্যত আটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীকে (Suvendu Adhikari) চিঠি লিখে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এরপরেই মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করে সরকার।
মৎস্যজীবীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)
আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তার প্রভাব পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও। পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছিল না। জানা গেছে, একজন গ্রাহক সর্বাধিক ২ হাজার টাকার ডিজেল এবং ৫০০ টাকার পেট্রোল পাচ্ছিলেন, আবার কিছু ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ আরও কম ছিল।
সাধারণ যানবাহনের তুলনায় মাছ ধরার ট্রলারগুলির জ্বালানির চাহিদা অনেক বেশি। একেকটি ট্রলারকে সমুদ্রে দীর্ঘ সময় রাখতে করতে হলে কয়েক হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিক্রির সীমাবদ্ধতার কারণে সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে মাছ ধরার মরশুম শুরু হলেও অনেকের মধ্যেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
দিঘা-সহ বিভিন্ন ট্রলার মালিক সংগঠন এবং দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরাম বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানায়। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর তেল সরবরাহকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করে ট্রলারগুলির জন্য ডিজেল প্রাপ্তি সহজ করার ব্যবস্থা নেয়। এর ফলে জ্বালানি সংগ্রহে যে বাধা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দূর হয়েছে।
রাজ্যের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে মৎস্যজীবী মহল। দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সম্পাদক দেবাশিস শ্যামল বলেন, “অনেক পাম্পেই একটা নির্দিষ্ট লিমিটের বেশি তেল মিলছিল না। কিন্তু অত অল্প তেলে তো মৎস্যজীবীদের চলবে না। এখন রাজ্যের ফুড অ্যান্ড সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট বিভিন্ন তেল কোম্পানিগুলির সঙ্গে কথা বলেছে। ট্রলারগুলির ডিজেল পেতে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা দেখতে বলা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের জন্য রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ খুব ইতিবাচক। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

আরও পড়ুন : পাতে ইলিশের নতুন চমক, জামাইষষ্ঠীর দিন বরিশালের কায়দায় রাঁধুন সুস্বাদু ইলিশ ভুনা
উল্লেখ্য, নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর উপকূল থেকে হাজার হাজার ট্রলার, লঞ্চ এবং যান্ত্রিক নৌকা ইলিশ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যাওয়া শুরু করেছে। প্রতি বছর প্রায় তিন হাজারেরও বেশি মাছ ধরার যান এই মরশুমে অংশ নেয়। জ্বালানি সমস্যা মিটে যাওয়ায় এবার ইলিশের ফলন ভালো হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন মৎস্যজীবীরা।

















