বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলেজ স্ট্রিটকে (College Street) ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) আগেই জানিয়েছিলেন, বইপাড়ার সম্পূর্ণ ‘মেকওভার’ হবে। এবার কীভাবে সাজানো হবে তা প্রকাশ করলেন তিনি।
কলেজ স্ট্রিট নিয়ে বিরাট পরিকল্পনা রাজ্যের | (College Street)
বুধবার সাতসকালে আচমকাই কলেজ স্ট্রিটে হাজির হন অগ্নিমিত্রা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুরনিগমের পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে ও আধিকারিকরা। তাঁরা বইপাড়া চত্বর ঘুরে দেখেন। কলেজ স্ট্রিটকে কীভাবে সাজানো হবে সেই নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েই আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন মন্ত্রী। কথা বলেন পথচারীদের সঙ্গে। এরপরেই কলেজ স্ট্রিট নিয়ে রাজ্যের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ উচ্চ প্রাথমিকে সুপারিশপত্র দেওয়া শুরু করল SSC! নিয়োগপত্র নিয়েও জানা গেল বড় আপডেট
অগ্নিমিত্রা বলেন, কলেজ স্ট্রিটের একটা অংশ নো ভেহিক্যালস জোন হবে। সেখানে কোনও গাড়ি চলবে না, হর্ন বাজবে না। বইয়ের দোকানগুলিকে সেখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। তবে মূল কলেজ স্ট্রিটের রাস্তায় আপাতত কোনও বদল করা হচ্ছে না।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে মন্ত্রী বলেন, “কলেজ স্ট্রিট হল বইপাড়া। এখানে শুধু বইয়ের দোকান থাকবে। খাতা-বই, নোট-প্যাডের দোকান থাকবে। নো ভেহিক্যালস জোন হবে। সাইকেল চলবে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য থাকবে ব্যাটারি কার। ক্যাফে, বই পড়ার জন্য বেঞ্চ থাকবে। কোনও আওয়াজ হবে না। সেই কারণেই নো ভেহিক্যালস জোন করা হবে।“
একইসঙ্গে অগ্নিমিত্রা জানান, মেন কলেজ স্ট্রিট গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক জোন। ফলে সেখানে এখনই হাত দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “রেলিংটাকে দেখাতে চাই। সেই জন্য ওই দোকানগুলিকে যদি কোথাও নিয়ে যাওয়া যায়, আপাতত এগুলো দেখা হয়েছে। এবার কাজ শুরু হবে।“
মন্ত্রী আরও জানান, বইপ্রেমীরা এবার বইপাড়ায় সাইকেল নিয়ে ঘুরতে পারবেন। তিনি বলেন, “কেউ সাইকেল নিয়ে আসবেন না। সবাই এখান থেকেই সাইকেল নেবেন। যিনি হাঁটতে চান, তিনি হাঁটবেন। প্রবীণদের জন্য ব্যাটারি কারের ব্যবস্থা থাকবে।“

কলেজ স্ট্রিটের এই ভোলবদলের জন্য দোকানদারদের রুজিরুটির উপর কোনও প্রভাব পড়বে? এই প্রশ্ন করায় অগ্নিমিত্রা বলেন, “এই রাস্তার উপর অন্য কোনও দোকান নেই। যাদের বইয়ের দোকান আছে, তাঁদেরই তো রিলোকেট করা হবে। ওনাদের জন্যই তো এমন ডিজাইনের স্টল বানাব। জায়গাটাকে সুন্দর করা হবে। একটা নীল টিন, একটা লাল টিন চাই না। বিদেশে যেমন আছে সেই রকম সুন্দর করব।“
অগ্নিমিত্রা এই আশ্বাস দেওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন কলেজ স্ট্রিটের বই বিক্রেতারা। একজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা সবাই চাই সুন্দর হোক। তবে আমাদের পেটে যেন লাথি না পড়ে।













