মেয়ের অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা ঢুকল বাবার অ্যাকাউন্টে, শোরগোল শুরু

Published on:

Published on:

annapurna yojana(6)
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রতিশ্রুতি মতোই রাজ্যে চালু হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)। ইতিমধ্যেই প্রথম মাসের টাকাও ঢুকতে শুরু করেছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, ২৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জনের অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকল্পের টাকা ঢুকবে। ১২ পাতার ফর্ম, কড়া যাচাইয়ের পরই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে শুভেন্দু সরকার। তবে এর মধ্যেও বিপত্তি!

চূড়ান্ত পর্যায়ে কড়াকড়ির পরও এই দফায় পুরুষ ‘লক্ষ্মীর’ অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার খবর পাওয়া গিয়েছে। এবার বিতর্ক বাড়িয়ে অন্নপূর্ণায় আবেদনকারী মেয়ের টাকা ঢুকল বাবার অ্যাকাউন্টে। নদীয়ার ভীমপুর থানার চাঁদপুরের বাসিন্দা সঞ্জিত বিশ্বাসের (৭৪) অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে তাঁর মেয়ে শেফালি বিশ্বাসের টাকা।

‘ভুল’ অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা | Annapurna Yojana

আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন শেফালি। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণের পর সেই টাকা ঢুকেছে তাঁর বাবার অ্যাকাউন্টে। এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলাজুড়ে। ইতিমধ্যেই টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, বার্ধক্য ভাতার টাকা তুলতে স্থানীয় গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গিয়ে অন্নপূর্ণার টাকার হদিস পান সঞ্জিতবাবু।

সঞ্জিতবাবুর আধার নম্বরের সঙ্গে তাঁর মেয়ে শেফালির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। আসলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়ার সময় এনএফটি মোডে টাকা দেওয়া হত। তখন সঞ্জিতবাবু আধার কার্ডের সঙ্গে তাঁর মেয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করা ছিল। পরবর্তীতে ডিবিটি মোড হয় এবং অন্নপূর্ণা যোজনার সঙ্গে ওনার নাম যুক্ত হয়। সেই সময় আধার কার্ড লিংক থাকার কারণে ভাতার টাকা সেই অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে বলে খবর।

ইতিমধ্যেই সেই টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তাঁর মেয়ের অ্যাকাউন্টেই পাঠানো হয় প্রশাসনের কাছে সেই আর্জি রাখেন সঞ্জিতবাবু। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে রাজ্যে এসেছে অন্নপূর্ণা যোজনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য ও প্রকৃত সুবিধাভোগী মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: এবার রেল মানচিত্রে জুড়বে করিমপুর-লালগড়-সুন্দরবন, হচ্ছে ৬০ নতুন মেট্রো রেক, বাংলার জন্য মেগা ‘সারপ্রাইস’ আসছে

এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার এবং কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীরা। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র থেকে বাদ রাখা হয়েছে রাজ্য সরকার অনুমোদিত শিক্ষক, অশিক্ষক, পুর ও পঞ্চায়েত কর্মীদের।

Annapurna yojana

পাশাপাশি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী চাকরিতে রয়েছেন কিংবা নিয়মিত বেতন বা পেনশন পান এমন মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। আয়করদাতা হলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তি বা এলাকা বদল করেছেন, ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে বা যাঁরা অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে।