বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের মূল্যের ক্রমাগত ওঠানামায় সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, যানবাহনে জ্বালানি ভরতে গেলেও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় চিন্তিত অধিকাংশজন। এখন, এই ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করতে এবং দামি বিদেশি তেলের ওপর দেশের ব্যাপক নির্ভরতা কমাতে সরকার একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। ইকোনমিক টাইমস-এর একটি রিপোর্ট অনুসারে, ভারত এখন দ্রুত অত্যাধুনিক ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহন চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই যানবাহনগুলি E85 জ্বালানিতে (Ethanol E85 Plan) চলতে পারবে। যা হল ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং মাত্র ১৫ শতাংশ পেট্রোলের মিশ্রণ।
সামনে এল E-85 (Ethanol E85 Plan) পরিকল্পনা:
বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা পেট্রোল বাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব রয়েছে: সাম্প্রতিক মাসগুলিতে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা গেছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের সীমাও অতিক্রম করেছিল। যদিও, পরবর্তীকালে যুদ্ধবিরতির চুক্তি দাম কিছুটা কমিয়েছে। তবুও, সাপ্লাই চেনে আকস্মিক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাজারজুড়ে ব্যাপকভাবে বিরাজ করছে। এছাড়াও হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এই জ্বালানি উদ্বেগগুলিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রকের মতে, একটি গোলাগুলির ঘটনার পর প্রণালীটি অতিক্রমকারী ২ টি জাহাজ নিরাপত্তার জন্য পারস্য উপসাগরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। জানিয়ে রাখি যে, ভারতে পরিবহণ খাতেই পেট্রোলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। তাই যেকোনও বাহ্যিক সংঘাত দেশের অর্থনীতি, পরিবহণ খরচ এবং দৈনন্দিন মুদ্রাস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

নতুন E-85 ফর্মুলা: এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, সরকার ২০২৫ সালে দেশব্যাপী ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের (E20) নিয়ম চালু করে। তবে, এই পরিবর্তনের সময় অনেক গাড়ির মালিক মাইলেজ এবং ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেন। এখন, নীতি নির্ধারকরা অতীতের এই ত্রুটিগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে সরাসরি E-85 জ্বালানির দিকে মনোযোগ সরিয়ে একটি বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এর জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল ভেহিকেল’ (FFV)-এর প্রয়োজন হবে। এই যানবাহনগুলির ইঞ্জিন বিশেষভাবে এমনভাবে ক্যালিব্রেট করা হয়, যাতে উচ্চ-ইথানল জ্বালানিতেও কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছাড়াই চমৎকার পারফরম্যান্স এবং জ্বালানি দক্ষতা প্রদান করা যায়।
আরও পড়ুন: ১৫,২৯৬ কোটির আয়! WhatsApp-Telegram-এর যুগেও বিরাট নজির গড়ল ভারতীয় ডাক বিভাগ
এই যানবাহনগুলি রাস্তায় কবে দেখা যাবে: এই গুরুত্বপূর্ণ এবং বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পটি যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সোমবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়। যেখানে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্দেশ্যে গঠিত একটি বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপ ওই বৈঠকে তাদের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও উপস্থাপনা পেশ করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থা থেকে শুরু করে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরে শীর্ষ প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাঁদের বিস্তারিত সুপারিশগুলি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলির শীর্ষ আধিকারিক থেকে শুরু করে সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স তথা SIAM-এর উচ্চ আধিকারিক এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণাকের নীতিনির্ধারকদের সামনে আলোচনার জন্য পেশ করা হয় বলেও জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: নিউক্লিয়ার এনার্জি বিজনেসে এন্ট্রি আদানি গ্রুপের এই কোম্পানির! হু হু করে বাড়ল শেয়ারের দাম
মূলত, নীতি নির্ধারকদের প্রধান উদ্দেশ্য শুধু পেট্রোলের একটি সস্তা বিকল্প খুঁজে বের করাই নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজারের আকস্মিক ধাক্কা থেকে দ্রুত বর্ধনশীল ভারতীয় অর্থনীতিকে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জ্বালানি বৈচিত্র্যের ফলে, ভবিষ্যতে ভারতীয় যানবাহনে ব্যবহৃত জ্বালানির ক্ষেত্রে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর আর বেশি ভরসা করতে হবে না। বরং এটি আমাদের দেশে উৎপাদিত দেশীয় ইথানল থেকে তৈরি করা হবে।












