ভিন্ন রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ,পুর পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় পালাবদলের পর এবার চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে শহরের পরিষেবা ব্যবস্থা। রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন দলের উপস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে দোলাচল। পশ্চিমবঙ্গে ১২০টিরও বেশি পুরসভা (Municipal Corporation) রয়েছে।

পুরসভার (Municipal Corporation) কাজ নিয়ে সংশয়

কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর, আসানসোল ও শিলিগুড়ির মতো বড় শহরগুলিতে পুরনিগম চালু আছে। এই সংস্থাগুলির অধিকাংশই এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদলের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে রাজ্য প্রশাসন ও পুর প্রশাসন আলাদা রাজনৈতিক দলের হাতে। ফলে এই দ্বৈত কাঠামো শহুরে পরিষেবার স্বাভাবিক গতিকে প্রভাবিত করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের পরের দিনই কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন ছিল। এদিনের বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকের অনুপস্থিতি চোখে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। বর্তমানে পুর কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন স্মিতা পান্ডে, যিনি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই পদে আসীন হয়েছেন। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় পুরবোর্ড ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে পরিষেবার উপর।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করতে চাননি মেয়র ফিরহাদ হাকিম। হাওড়া পুরসভার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। ২০১৮ সালে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হলেও এখনও নির্বাচন হয়নি। বর্তমানে কমিশনারের তত্ত্বাবধানে প্রশাসন চললেও পরিষেবা নিয়ে মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। ফলে এখন নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্য পুরসভাগুলিতেও একই ধরনের জটিলতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Different political controls, questions about the future of municipal corporation services

আরও পড়ুন : সিরাজ উদ্যানের নাম বদলে শিবাজি, পাল্টাল মসজিদবাড়ি রোডও

অতীতের অভিজ্ঞতা অবশ্য ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলকাতার মেয়র ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সেই সময় রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। জ্যোতি বসুর পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী হলেও পুর প্রশাসনে বড় কোনও সংঘাত দেখা যায়নি। অভিজ্ঞদের মতে, সেই সময় পরিষেবা স্বাভাবিকভাবেই চলেছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই সমন্বয়ের পরিবেশ বজায় থাকে কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। আগামী পুরভোটের আগে পর্যন্ত প্রশাসন ও পুরবোর্ডের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে নাগরিক পরিষেবার ধারাবাহিকতা।