বাংলাহান্ট ডেস্ক: ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে লাভের সম্ভাবনা যেমন বিপুল, তেমনই মুহূর্তের মধ্যে বড় ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। সেই বাস্তবতারই নতুন উদাহরণ সামনে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) পরিবারকে ঘিরে। বিদেশি সংবাদমাধ্যম এবং ব্লুমবার্গের (Bloomberg) প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এরিক ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত ‘আমেরিকান বিটকয়েন’ সংস্থায় বিনিয়োগের মূল্য গত কয়েক মাসে ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এরিক ট্রাম্পের (Eric Trump) শেয়ারের বাজারমূল্য প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৫,৭০০ কোটিরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আর্থিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, শুধুমাত্র ক্রিপ্টো-নির্ভর ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ।
যুদ্ধের অস্থিরতার আবহেই ৫,৭০০ কোটি টাকা খোয়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump):
‘আমেরিকান বিটকয়েন’ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল বিটকয়েন মাইনিং এবং ডিজিটাল সম্পদের মাধ্যমে বড় আকারে মুনাফা অর্জন করা। কিন্তু গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। একদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে অস্থিরতা, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে বিনিয়োগকারীদের নজর ঘুরে যায় সেইসব সংস্থার দিকে, যাদের ডেটা সেন্টার ও কম্পিউটিং পরিকাঠামো এআই শিল্পে ব্যবহার করা সম্ভব। অথচ ‘আমেরিকান বিটকয়েন’ তাদের পুরনো কৌশলেই অটল থাকে। তার ফলেই সংস্থার শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ স্তর থেকে ৯৫ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাসডাকে তালিকাভুক্তি বজায় রাখার জন্য সংস্থাকে ১৫টি পুরনো শেয়ারের বদলে ১টি নতুন শেয়ার দেওয়ার রিভার্স স্টক স্প্লিটের পথও বেছে নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থার শেয়ারের দাম সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরেও নেমে এসেছে (Donald Trump)।
আরও পড়ুন: PoK-তে অশান্তির আগুন! বাড়ছে জনরোষ, এই আবহেই নিয়ন্ত্রণরেখা পরিদর্শন করলেন ভারতের সেনাপ্রধান
সংস্থার শুরুটাও ছিল যথেষ্ট উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘আমেরিকান ডেটা সেন্টারস ইনকর্পোরেটেড’ নামে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। এরিক ট্রাম্প এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সমর্থনে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে এআই-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারের পরিকাঠামো তৈরি করা। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যেই সংস্থা কৌশল বদলে ‘হাট ৮’ থেকে মাইনিং সরঞ্জাম অধিগ্রহণ করে সম্পূর্ণভাবে বিটকয়েন মাইনিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরে ‘গ্রিফন ডিজিটাল মাইনিং’-এর সঙ্গে রিভার্স মার্জারের মাধ্যমে নতুন নামে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রথমদিকে শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়লেও সেই উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাজারের প্রবণতা বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সংস্থার মূল্যও দ্রুত কমতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে শুধুমাত্র বিটকয়েন উৎপাদন করাই কোনও সংস্থার সাফল্যের মাপকাঠি নয়। বরং বিদ্যুৎ, জমি, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং ডেটা সেন্টারকে কাজে লাগিয়ে এআই পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতাই বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এই কারণেই রায়ট প্ল্যাটফর্মস, সাইফার ডিজিটাল, মারা হোল্ডিংস এবং টেরাউলফের মতো সংস্থাগুলি ডেটা সেন্টার ব্যবসায় সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়ার পর তাদের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিপরীতে ‘আমেরিকান বিটকয়েন’ তার পুরনো ব্যবসায়িক মডেলেই থেকে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারাতে শুরু করে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশ্লেষক জন টোড্যারোর মতে, বর্তমানে প্রায় সব বড় মাইনিং সংস্থাই হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং এবং এআই-ভিত্তিক পরিকাঠামোর দিকে ঝুঁকছে, কিন্তু ‘আমেরিকান বিটকয়েন’ সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।

আরও পড়ুন: মহাকাশে নয়া ইতিহাস গড়বে ভারত! তৈরি হবে নিজস্ব স্পেস স্টেশন, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা জানালেন মোদী
এই ঘটনাকে শুধু একটি সংস্থার আর্থিক ক্ষতি হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এটি ডিজিটাল সম্পদে বিনিয়োগের ঝুঁকি সম্পর্কেও বড় বার্তা দিচ্ছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) তাঁর আর্থিক বিবরণীতে ক্রিপ্টো খাত থেকে বিপুল আয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, তবুও ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ একাধিক ক্রিপ্টো উদ্যোগের মূল্য সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এরিক ট্রাম্প বর্তমানে সংস্থার প্রায় ৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক এবং প্রধান কৌশল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ‘আমেরিকান বিটকয়েন’ যদি এআই-ভিত্তিক পরিকাঠামো ও ডেটা সেন্টার ব্যবসায় আরও সক্রিয়ভাবে প্রবেশ করতে না পারে, তবে সংস্থার সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের দ্রুত পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় সময়মতো কৌশল না বদলালে বড় মূল্য চোকাতে হতে পারে।

















