ব্যারাকপুরে বৃদ্ধকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, কাঠগড়ায় তৃণমূল কাউন্সিলর

Published on:

Published on:

elderly man was allegedly beaten to death in Barrackpore TMC councillor is among those accused
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ব্যারাকপুরে (Barrackpore) মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগের আঙুল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দিকে। একজন একাশি বছরের বৃদ্ধকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। উত্তর ব্যারাকপুরের এই ঘটনায় চারিদিকে শোরগোল পড়ে গেছে।

ব্যারাকপুরে (Barrackpore) বৃদ্ধর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা

জানা গেছে যে, বেআইনি নির্মাণ বানানোর প্রতিবাদ জানিয়ে উত্তর ব্যারাকপুরের পৌরসভাতে চিঠি দিয়েছিলেন মনিরামপুর এলাকার বাসিন্দা তুলসী চরণ অধিকারিক। আর সেই কারণেই তাকে বেধড়ক মারধর করেন তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন ভট্টাচার্য। তিনি ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। রবিবার অভিযুক্ত কাউন্সিলর তুলসী বাবুর বাড়িতে এসে হাজির হন এবং মারধর করেন তুলসী বাবুকে। এই মারধরের কারণেই বৃদ্ধের মৃত্যু ঘটেছে, এমনটাই অভিযোগ উঠছে।

তাকে চিকিৎসার জন্য ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় প্রচন্ড উত্তেজনা ছড়িয়েছে ব্যারাকপুর এলাকাতে। এখনো তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়নি। মৃতের পুত্রবধূ পারমিতা অধিকারী বলেন, ‘আমাদের অপরাধ একটাই, আমাদের পাশে একটি বেআইনি বাড়ি হচ্ছে। আমরা কাউন্সিলরকে জানাই, কোনও পদক্ষেপ করেননি উনি। আমাদের অপরাধ ওকে টপকে কেন চেয়ারম্যান কে চিঠি দিয়েছি। সেই কারণে ইগোতে লেগেছে। আমার স্বামীর গায়ে হাত তুলেছে। ছেলেকে মারতে দেখে কী কোনও বাবা চুপ থাকতে পারে? শ্বশুরের ৮১ বছর বয়স। কীভাবে লাথি মারলেন তাকে।’

আরও পড়ুন:রক্ত দেওয়ার পর প্রথম একদিন শরীরে ঠিক কী পরিবর্তন হয়? সুস্থ থাকতে যা জানা জরুরি

মৃত বৃদ্ধের ছেলে বলেন, বাবা কে গালিগালাজ করেছে। বাবা সঙ্গে সঙ্গে কাউন্সিলরের কলার ধরেছে। আমি বাবাকে বললাম, বাবা ওকে ছেড়ে দাও। বাবা ছাড়তেই রবিন আমায় বলছে, এখানে এসেছি মস্তানি করতে এরপর বাবাকে ঠেলেছে, লাথি মেরেছে, বাবা মাটিতে পড়ে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছে।

আরও পড়ুন:DA বকেয়া নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ, এবার আন্দোলনে নামছেন কেন্দ্রীয় কর্মীরা

elderly man was allegedly beaten to death in Barrackpore TMC councillor is among those accused

অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে, এই ঘটনায় তিনি দায়ী নয়। আরো বলেন যে, বৃদ্ধের এই পরিণতির জন্য ‘দায়ী ওর ছেলে’। তিনি অভিযোগ তোলেন যে, তাকে গালিগালাজ করা হয়েছে, মারা হয়েছে এবং পাড়ায় গেলে সবটুকু জানা যাবে। এখন দেখার পুলিশ কি পদক্ষেপ নেয়। কারণ এখনো পর্যন্ত অভিযোগ পেয়েও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। তবে এই ঘটনায় ব্যারাকপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এমনিতেই সামনে নির্বাচন বলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। সেই জায়গায় এরকম একটি ঘটনা অগ্নিতে ঘি সংযোগের কাজ করবে কিনা তা সময়ই বলবে।