বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইন্ডিগোর (IndiGo) কাছে পর্যাপ্ত পাইলট রয়েছে এবং আগামী দিনে সংস্থার উড়ান পরিষেবা স্বাভাবিক ও মসৃণ ভাবেই চলবে—মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছে উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ। ১৯ জানুয়ারি ইন্ডিগোর সঙ্গে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে ডিজিসিএ জানায়, বিমানসংস্থা তাদের আশ্বাস দিয়েছে যে পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় পাইলটের কোনও ঘাটতি নেই। পাশাপাশি ইন্ডিগো জানিয়েছে, ১০ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তাদের কোনও উড়ান বাতিল করার পরিকল্পনা নেই। তবে ডিজিসিএ স্পষ্ট করেছে, সংস্থার কার্যকলাপের উপর কড়া নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
আর বাতিল হবে না উড়ান, জানাল ইন্ডিগো (IndiGo)
উড়ান বিপর্যয়ের পর্বে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছে ডিজিসিএ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিমানবন্দর এবং ইন্ডিগোর অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টারে দু’জন করে ফ্লাইট অপারেশনাল ইনস্পেক্টর ও যাত্রী সহায়তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁরা প্রতিদিন সংস্থার উড়ান পরিচালনা, সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রী পরিষেবার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি ওই সময় ইন্ডিগোকে প্রতিদিন অপারেশনাল রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: চাকরি ছেড়ে ১ লক্ষ টাকায় শুরু স্টার্টআপ! আজ ১৫ কোটির টার্নওভার, নজির গড়লেন লোকেশ্বরন
ওই রিপোর্টে কোন কোন উড়ান বাতিল হয়েছে, কোনগুলি দেরিতে চলছে, কর্মীদের কোথায় ও কী ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ডিউটি ও ছুটির সূচি—সব কিছুর বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে সংস্থার কী পরিকল্পনা রয়েছে, তাও জানাতে বলা হয়। ডিজিসিএ জানিয়েছে, এই সব তথ্য বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবারই ডিজিসিএ ইন্ডিগোর উপর ২২.২ কোটি টাকার জরিমানা চাপিয়েছে। পাশাপাশি সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং এক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিজিসিএ-র তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইন্ডিগোর মোট ২,৫০৭টি উড়ান বাতিল হয় এবং ১,৮৫২টি উড়ানের সময়সূচি বদলাতে হয়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তিন লক্ষেরও বেশি যাত্রী আটকে পড়েন এবং চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় তাঁদের।

আরও পড়ুন: ভারতে T20 বিশ্বকাপ খেলতে আসার প্রশ্নে মাথা গরম বাংলাদেশের! রাখঢাক না রেখে কী জানালেন উপদেষ্টা?
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের নির্দেশে ডিজিসিএ একটি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, সফ্টওয়্যার ব্যবস্থাপনা, পাইলট ও বিমানকর্মীদের ডিউটি টাইমিং—সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্তে উঠে আসে, মূলত পরিচালনাগত ত্রুটি এবং পরিকল্পনার গাফিলতির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটে। পাশাপাশি ডিজিসিএ-র সংশোধিত ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’ বিধি ঠিকমতো মানা হয়নি বলেও জানা যায়। সেই কারণেই এবার মোটা অঙ্কের জরিমানা ও কড়া নজরদারির মুখে পড়তে হল দেশের বৃহত্তম বিমানসংস্থাকে।












