দু’চাকা কেনার জন্য মিলবে দেড় লক্ষ টাকা! রাজ্য সরকারি কর্মীদের নয়া সুবিধা নবান্নের

Published on:

Published on:

government employees to get 1.5 lakh rupees for purchasing a two-wheeler

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্য সরকারি কর্মীদের (Government Employees) জন্য বড় সুখবর দিল নবান্ন। মোটর সাইকেল, স্কুটার কিংবা ইলেকট্রিক বাইক কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ঋণের অঙ্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ দফতর। নতুন ব্যবস্থায় সাধারণ বাইকের তুলনায় ব্যাটারিচালিত দুচাকা কেনার জন্য বেশি টাকা ঋণ পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, ঋণের আবেদন অনুমোদনের জন্য একাধিক দফতরে ফাইল পাঠানোর পুরনো পদ্ধতিও তুলে দেওয়া হচ্ছে। ধনতেরাসের আগে এই পরিবর্তন সরকারি কর্মীদের কাছে নিঃসন্দেহে বড় আর্থিক স্বস্তির খবর।

দু’চাকা কেনার জন্য বাড়ানো হল সরকারি কর্মীদের(Government Employees) ঋণের পরিমাণ

নতুন নির্দেশিকায় পেট্রলচালিত ও ইলেকট্রিক দু’চাকার জন্য আলাদা ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ মোটর সাইকেল বা স্কুটার প্রথমবার কিনতে চাইলে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে। তবে এই অঙ্ক সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। কর্মীর পাঁচ মাসের মূল বেতন এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির দামের মধ্যে যেটি কম, সেই হিসাবেই ঋণ মঞ্জুর করা হবে। দ্বিতীয়বার পেট্রলচালিত দুচাকা কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা পাওয়া যেতে পারে।

government employees to get 1.5 lakh rupees for purchasing a two-wheeler

ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথমবার ব্যাটারিচালিত স্কুটার বা ই-বাইক কেনার জন্য সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কর্মীর ছমাসের মূল বেতন অথবা গাড়ির দাম—যে অঙ্কটি কম, সেটিই চূড়ান্ত হবে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয়বার ইলেকট্রিক দুচাকা কিনতে চাইলে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা ঋণ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব যানবাহনের দিকে কর্মীদের আগ্রহ বাড়াতে আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য।

আরও পড়ুন : পাহাড়প্রেমীদের জন্য সুখবর! উত্তরবঙ্গগামী বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত পূর্ব রেলের

ইচ্ছা থাকলেই যে কোনও সরকারি কর্মী এই ঋণের আবেদন করতে পারবেন না। অর্থ দফতরের নির্দেশে যোগ্যতার একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি রাখা হয়েছে। রোপা ২০১৯-এর বেতন কাঠামো অনুসারে, সংশ্লিষ্ট কর্মীর মাসিক মূল বেতন কমপক্ষে ২৫ হাজার ৭০০ টাকা হতে হবে। এর কম বেতন হলে এই ঋণের সুবিধা পাওয়া যাবে না। ঋণ নেওয়ার পর টাকা ফেরতের জন্যও নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। প্রথমে আসল ঋণের অর্থ বেতন থেকে কেটে সর্বাধিক ৬০টি মাসিক কিস্তিতে আদায় করা হবে। মূল টাকা মিটে যাওয়ার পরে সুদের বকেয়া অংশ পরিশোধের জন্য আরও সর্বোচ্চ ২০টি কিস্তি রাখা হয়েছে। তবে আগের ঋণের সম্পূর্ণ টাকা ও সুদ শোধ করার পর তিন বছর অতিক্রান্ত না হলে এই সুবিধায় দ্বিতীয়বার আবেদন করা যাবে না।

কিস্তি পরিশোধে অনিয়ম করলে বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপতে পারে। নির্ধারিত সময়ে টাকা না মেটালে অন্তত ৮ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি পদ্ধতিতে জরিমানামূলক সুদ ধার্য করার বিধান রয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন নির্দেশিকায় সরকারি কর্মীদের জন্য দু’চাকা কেনার আর্থিক সহায়তার পরিধি বাড়ল। বিশেষ করে ইলেকট্রিক বাইক কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঋণ এবং দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা এই সিদ্ধান্তের উল্লেখযোগ্য দিক।