বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে একের পর এক নথি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই এবার বার্থ সার্টিফিকেটের (Birth Certificate) পুরনো রেকর্ডের দিকে কড়া নজর রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া জন্ম শংসাপত্রগুলির বৈধতা খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের অন্দরে শুরু হচ্ছে বিশেষ যাচাই।
কাদের বার্থ সার্টিফিকেট (Birth Certificate) যাচাই করবে সরকার ?
হাতে লেখা বার্থ সার্টিফিকেট বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত জন্ম শংসাপত্র— সব নথিই যাচাই করা হবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় গোটা প্রক্রিয়ার দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের ক্ষেত্রে বিডিও এবং শহরাঞ্চলে এসডিও-রা এই যাচাইয়ের নেতৃত্ব দেবেন। প্রয়োজন মনে করলে তাঁরা আলাদা তদন্তকারী দলও গঠন করতে পারবেন।
প্রশাসনের নজরে বিশেষভাবে থাকছে দেরিতে করা জন্ম নিবন্ধন শংসাপত্রগুলি। কোনও শিশুর জন্মের এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর কেন নিবন্ধনের আবেদন করা হয়েছিল, সেই কারণ জানতে হবে। জন্মশংসাপত্র দেওয়ার সময় আবেদনকারীর কাছ থেকে কী কী প্রমাণপত্র নেওয়া হয়েছিল, সেগুলি যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মেনে কাজ হয়েছিল কি না—প্রতিটি বিষয়ই খতিয়ে দেখবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা।
নবান্নের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, বিভিন্ন ক্ষেত্রে শংসাপত্র তৈরিতে গরমিলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলাকালীন সন্দেহজনক জন্মশংসাপত্রের বিষয় সামনে আসায় পুরনো নথিগুলির সত্যতা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এবার শুধু শংসাপত্রটি আসল কি না, তা দেখলেই হবে না। তদন্তের প্রতিটি ধাপের তথ্য অনলাইনে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন নথি পরীক্ষা করা হল, কী তথ্য পাওয়া গেল এবং শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল—সবই ‘জন্ম-মৃত্যু তথ্য পোর্টাল’-এ আপলোড করতে হবে। প্রতিটি জন্মশংসাপত্রের জন্য আলাদা রিপোর্ট তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে। কোনও নথি বৈধ হলে তা রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে। আবার শংসাপত্র জাল বা ত্রুটিপূর্ণ হলে তার কারণও স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।
পুরনো কাগজের জন্মশংসাপত্র ডিজিটাল রেকর্ডে তোলার ক্ষেত্রেও এই যাচাই কাজে লাগবে। তদন্তকারী দলের সদস্যদের যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কড়া শর্ত রাখা হয়েছে। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা ডেপুটি কালেক্টরের পদমর্যাদার বা তার উচ্চ পদমর্যাদার কোনও আধিকারিককে এই কাজে রাখতে হবে।

আরও পড়ুন : মধ্যবিত্তদের পকেটে চাপ! বেগুন- টমেটো থেকে তেল-ময়দা কত বাড়ল বাজারদর?
পুরপ্রধান কিংবা পঞ্চায়েত প্রধানরা এই ধরনের শংসাপত্র দেওয়ার অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ নন। নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমেই এই নথি ইস্যু করার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে যাচাই শেষ হলে কতগুলি নথি নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছিল, কতগুলিতে গরমিল মিলল এবং কোথায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেল—সেই ছবি সামনে আসবে।













