বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজ্য সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে চর্চার মাঝেই ফের চড়ল পারদ। ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান থেকে গ্রান্ট ইন এইড কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরই পাল্টা আসরে নামল রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ।
বকেয়া ডিএ ইস্যুতে চড়ছে পারদ | Dearness Allowance
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের ডিএ ধীরে ধীরে মিটিয়ে দিচ্ছে রাজ্য। ইতিমধ্যেই একটা অংশের বকেয়া DA, DR ঢুকে গিয়েছে অ্যাকাউন্টে। তবে ‘বঞ্চিত’ রয়েচেজ গ্রান্ট ইন এইড কর্মচারী, সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীরা। তাদের বকেয়া DA নিয়ে বার্তা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিএ আপনাদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হয়নি, মালহোত্র কমিটি যা বলবে মেনে নেব।”
একইসাথে তিনি আরও বলেন, “আমরা হিসাব করে দেখেছি যদি ডিএ দিতে বলে, এরিয়ার নিয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে শিক্ষক- শিক্ষিকাদের হাতে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই গ্রান্ট-ইন-এড কর্মীদের নিয়ে চর্চা বেড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়।
মলয়বাবু বলেন, ‘গতকাল মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যেটা বলেছে যে ইন্দু মালহোত্রা কমিটি যদি গ্রান্ট ইন এইড কর্মচারীদের ডিএ-টা দিয়ে দিতে বলে তাহলে আস্তে আস্তে দিয়ে দেব। এখন একটা প্রশ্ন তো থেকে যায়। শুধু আমরা নয়, যে কটা সংগঠন মামলা করেছে তারা তো সকলেই গ্রান্ট ইন এইড, ডিএ গেটিং কন্টাক্টচ্যুয়াল এমপ্লয়িজ, ডেইলি রেটেড এমপ্লয়ি, রেগুলার যে পে স্কেল তারাও তো ডিএ পায়। তাঁদের কথাও তো আমরা তুলে ধরেছি। তাঁদেরও ডিএ দিতে হবে। আমরা বারবার বলছি।’
ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কাছে এই বার্তাটা থাকবেই আমাদের। গ্রান্ট ইন এইড কর্মচারীদের ডিএ দিতে হবে রোপা মেনে। আমরা যে মামলাটা করেছি ট্রাইবুনালে মামলা করেছি, খোদ সরকারি কর্মচারীদেরই করতে হয়েছে। এখানে আইনগত বাধা আছে বলে আর অন্য কোনও সংগঠন যেতে পারেনি।’
বলেন, ‘আমরা তো বারবার বলেছি যে রোপা মেনে যাঁরা যাঁরা ডিএ পায় তাঁদেরকো দিতে হবে। সেখানে গ্রান্ট ইন এইড, ডিএ গেটিং কন্টাক্টচ্যুয়াল এমপ্লয়িজ, ডেইলি রেটেড এমপ্লয়ি আছে তাঁদের সকলকে দিতে হবে। এই বার্তা তো আমরা তুলব গিয়ে ১২ তারিখ। কিন্তু এখানে তো শুধু আমরা আর ইন্দু মালহোত্রা কমিটিরর যে ৪ জন আছে, তারা শুধু বৈঠকে বসব না। সরকারি প্রতিনিধিরা থাকবে। এবার তারা যদি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কথা মতো বলে দেয় যে হ্যাঁ আমরা গ্রান্ট ইন এইড এবং অন্যান্য কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দিয়ে দেব। সেটা কি বলবে? নাকি অপোজ করবে।’

আরও পড়ুন: পুজোর মাসে সরকারি কর্মীদের জন্য বাড়তি ছুটি! বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজও, কোন দিন জানুন
সংশয় প্রকাশ করে মলয়বাবু বলেন, ‘গতকাল যে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে ইন্দু মালহোত্রা কমিটি বললে ডিএ দিয়ে দেব। আরে ডিএ তো সরকার দেবে। ইন্দু মালহোত্রা কমিটির বলতে হবে কেন। নয়া সরকার ক্ষমতায় এসে সর্বোচ্চ আদালত থেকে তো মামলাটা তুলে নিতে পারত। যে আমরা কর্মচারী সমাজের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেব। তাহলে তো ইন্দু মালহোত্রা কমিটির প্রশ্ন আসত না। সরকার তো সেটা করেনি। মামলা চালিয়ে যাচ্ছে।’













