বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দলের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে নির্বাচনী কৌশল- প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই অবস্থান বদলেছে। এখন একাধিক অভিযোগ, তদন্ত এবং আইনি জটিলতার কারণে বারবার শিরোনামে উঠে আসছে তাঁর নাম।
অভিষেকের (Abhishek Banerjee) নামে কটি মামলা ?
যুব তৃণমূলের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এবং পরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ— অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অভিষেকের হাতে আসে। দলের অন্দরে তাঁর প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকায় বহু সিদ্ধান্ত কার্যত তাঁর অনুমোদন ছাড়া এগোত না বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল।
বিচারব্যবস্থাকে ঘিরেও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন সময়ে আদালত ও বিচারপতিদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। অভিষেক এখন নানা মামলার জেরে আইনি লড়াইয়ে জর্জরিত। যিনি অতীতে বিচারব্যবস্থার সমালোচনায় সরব ছিলেন, তিনিই এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদালতের রক্ষাকবচের আশ্রয় নিচ্ছেন।
সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলির মধ্যে অন্যতম কয়লা পাচার মামলা। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)-এর খনি থেকে কয়লা চুরি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর তদন্ত শুরু হয়। এই মামলায় অভিষেকের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নাম উঠে আসে এবং গ্রেফতার হয়। তদন্তের স্বার্থে একাধিকবার তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে তলব করা হয়েছিল। এই তদন্ত এখনও চলছে।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও তাঁর নাম বারবার সামনে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থা অতীতে একাধিকবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল। সম্প্রতি ফের অভিষেকের নামে সমন জারি করে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সই জালিয়াতি মামলাতেও তাঁকে তলব করা হয়েছে। তদন্তভার সিআইডির হাতে যাওয়ার পর বারবার ডাকা হলেও আদালতের সুরক্ষা চেয়ে তিনি হাজিরা এড়ান বলে অভিযোগ। পরে আদালতের পর্যবেক্ষণের পর তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হন।
এছাড়াও নির্বাচনী প্রচারে “ফল ঘোষণার পর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজবে” মন্তব্যকে কেন্দ্র করে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পরবর্তীতে সিআইডি তদন্তভার গ্রহণ করে এবং তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেয়। শুধু এই মামলাগুলিই নয়, ২০১৮ সালের একটি মারধরের অভিযোগে ডায়মন্ড হারবার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগেও পৃথক মামলা হয়েছে শিলিগুড়িতে।

আরও পড়ুন : রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় আপডেট, আবেদন করে থাকলে জানুন
এদিকে আমফান-পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিষ্ণুপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হেয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক তদন্ত, আদালতের নজরদারি এবং ক্রমবর্ধমান অভিযোগের চাপে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য তথা দেশের রাজনৈতিক মহলের।

















